ফাতেমা নোয়াখালীর সদর উপজেলার কাদির হানিফ গ্রামের টোকেনের বাড়ির আহছান উল্যাহর মেয়ে। স্বামী মিজানুর রহমান একই উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাঁদের। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তাঁরা চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

গত শুক্রবার ফাতেমার অসুস্থতার খবর পেয়ে চট্টগ্রামে গিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর লাশ দেখতে পান বাবা আহছান উল্যাহ। তাঁর ধারণা, ফাতেমাকে তাঁর স্বামী ও স্বামীর বাড়ির লোকজন আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করেছেন। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও সহযোগিতার অভিযোগ এনে হাটহাজারী থানায় মামলা করেন আহছান উল্যাহ। এতে আসামি করা হয়েছে পাঁচজনকে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, আজ সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রামের নিহত গৃহবধূ ফাতেমা আক্তারের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও এলাকার লোকজন তাঁর লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে মিছিল সহকারে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে আসেন। সেখানে তাঁরা কিছুক্ষণ সময় বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মানববন্ধন করেন। এরপর তাঁরা নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। বিক্ষোভকারীরা এ সময় ফাতেমার মৃত্যুর জন্য তাঁর স্বামী এসআই মিজানুর রহমানকে দায়ী করে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় নিহত ফাতেমার বাবা আহছান উল্যাহ মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা বর্ণনা করেন।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চট্রগ্রামের হালিশহরে নোয়াখালীর এক মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তাঁর স্বামীর শাস্তির দাবিতে জেলা শহর মাইজদীতে লাশ নিয়ে স্বজনেরা একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

চট্টগ্রাম জেলার আরআরএফে সংযুক্ত রয়েছেন এসআই মিজানুর রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য আজ বেলা একটার দিকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। একপর্যায়ে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন