মানববন্ধনে বলা হয়, আজ না হয় ওই মেয়ের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে, এটা ছাড় দিলে ভবিষ্যতে অন্য মেয়ের জীবনেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।

যাঁর বিরুদ্ধে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিন (বিভাগ) থেকে সদ্য স্নাতক শেষ করেছেন। হরিণটানা থানায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর করা পর্নোগ্রাফি মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন ওই ছেলে।

মামলার এজাহার, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি মেসে থাকতেন। ২ এপ্রিল বিকেলের দিকে গোসল করার সময় দেখতে পান বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে কেউ একজন ভিডিও করছেন। এ সময় চিৎকার দিলে ওই ছেলে পালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে মেয়েটি তাঁর বন্ধুবান্ধবের কাছে ঘটনাটি খুলে বলেন। তাঁরা আশপাশের বিভিন্ন বাড়িতে থাকা সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হন ওই ছেলে এ কাজ করেছেন।

কয়েকজন শিক্ষার্থীর বরাতে জানা যায়, ৪ এপ্রিল রাতে ওই ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি সড়কে পেয়ে ওই ছাত্রীর বন্ধুরা তাঁকে আটক করেন। ওই মেয়ে গিয়ে ছেলেটির মুঠোফোনে তাঁর নগ্ন ছবি দেখতে পান। এ সময় সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের সামনে ঘটনার সত্যতাও স্বীকার করেন ওই ছেলে। পরে শিক্ষার্থীরা ওই ছেলেকে পিটুনি দেন। আহত অবস্থায় তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক সহকারী পরিচালকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওই মেয়ের বন্ধুরা জানান, ছেলেটির মুঠোফোনে মেয়েটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করার যথেষ্ট প্রমাণ ছিল। এ কারণেই অন্য শিক্ষার্থীরা তাঁকে মারধর করেছেন। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, মামলা হওয়ার পর ওই ছেলেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে তাঁকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন। লিখিত আবেদনে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ১২ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে তাঁদের ছাত্রত্ব বাতিল করার অনুরোধ করেছেন।