বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বক্তারা বলেন, তিন সাঁওতাল হত্যার বিচারের দাবিতে তাঁরা ছয় বছর ধরে আদালতসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু বিচার শুরু হয়নি—যা রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা। প্রশাসন হত্যাকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে। বিচারের নামে টালবাহানা করে যাচ্ছে। এ হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁদের কেউ গ্রেপ্তার করছে না। এ কারণে সাঁওতালদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বক্তারা আরও বলেন, সাঁওতালদের বাপ-দাদার জমি ফেরত না দিয়ে তাঁদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। উন্নয়নে পিছিয়ে থাকা গাইবান্ধা জেলায় সর্বজন গ্রহণযোগ্য স্থানে ইপিজেড করার দাবিকে অগ্রাজ্য করা হচ্ছে। সাঁওতালদের জমিতে এ ইপিজেড করার চেষ্টা ষড়যন্ত্রেরই অংশ। অবিলম্বে তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার, সাঁওতালদের বাপ-দাদার জমি ফেরতসহ সাত দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় রংপুর চিনিকলের আওতায় ১ হাজার ৮৪২ একর জমি আছে। ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর পুলিশ সঙ্গে নিয়ে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে আখ কাটতে যান চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা। এ সময় নিজেদের বাপ-দাদার জমি দাবি করে বাধা দেন সাঁওতালরা। এতে পুলিশ, চিনিকলের শ্রমিক ও সাঁওতালদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে রমেশ টুডু, শ্যামল হেমব্রম ও মঙ্গল মার্ডি নামের তিন সাঁওতাল নিহত হন। আহত হন উভয় পক্ষের ২০ জন। সাঁওতালদের পক্ষে ২৬ নভেম্বর থোমাস হেমব্রম বাদী হয়ে সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বুলবুল আহম্মেদসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে মামলা করেন।

পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের নির্দেশে গাইবান্ধার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করে। পিবিআই চলতি বছরের ২৩ জুলাই শাকিল আহম্মেদসহ ৯০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার বাদী থোমাস হেমব্রম আদালতে দেওয়া পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন। গত ৪ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্রের আদালতে সেই আবেদনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত আজ শুনানি ও আদেশের দিন–তারিখ ধার্য করেন।

এর পর থেকে সাঁওতালরা দফায় দফায় ওই জমি দখল করেন। এ পরিস্থিতিতে সাহেবগঞ্জ এলাকায় রংপুর চিনিকলের জমিতে ইপিজেড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা) কর্তৃপক্ষকে ইপিজেড বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সাঁওতালরা সেখানে ইপিজেড না করার জন্য আন্দোলন করে আসছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন