default-image

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেছেন, গোবিন্দগঞ্জের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি তৎপরতা বা নাশকতার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কুড়িয়ে পাওয়া মর্টার সেল কাটার সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

গোবিন্দগঞ্জে বাড়িতে বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিং করেন এসপি মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। দুপুর ১২টায় পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে এই ব্রিফিং হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে এসপি বলেন, ঢাকা-রংপুর জাতীয় মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। কাজের জন্য দুই পাশে মেশিন দিয়ে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়। কয়েক দিন আগে গোবিন্দগঞ্জের অদূরে বগুড়ার মোকামতলা থেকে নয়াপাড়া গ্রামের কোরবান আলীর বাড়ির লোকজন একটি মর্টার সেল কুড়িয়ে পায়। সেটি কোরবান আলীর বাড়িতে এনে রাখা হয়। গতকাল বুধবার বিকেলে মর্টার সেলটি কাটাকাটির সময় বিস্ফোরিত হয়। মর্টার সেলটি ১৯৭১ সাল অথবা এর আগের। এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় মাটির নিচে ছিল। মর্টার সেলের একটি অংশ আজ সকালে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় গতকাল বিকেলে হাবিবুর নামের একজনকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি বগুড়ার মোকামতলা এলাকায়। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্তকাজ আজ দুপুর ১২টায় শেষ করেছে বোমা বিশেষজ্ঞ দল। ঢাকা থেকে আসা ১১ সদস্যের দলটি আজ সকাল নয়টা থেকে ওই বাড়িতে তদন্তকাজ শুরু করে। দলটির সদস্যরা ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

আজ র‍্যাব সদর দপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে র‍্যাবের গোয়েন্দা দল খায়রুজ্জামান (৩৬) নামের একজনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। তাঁকে আজ ভোর পাঁচটার দিকে গাজীপুরের মাওনা থেকে থেকে ধরা হয়। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মেকুরাই নয়াপাড়া গ্রামে।

গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এই ঘটনায় নয়াপাড়া গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে ওই বাড়ির মালিক বোরহান উদ্দিন প্রধান (৩৬), একই গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে অহেদুল ইসলাম (৩৫) ও একই উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিড়াডাঙ্গা গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে রানা মিয়া (২৯) নিহত হন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন