বিজ্ঞাপন

মূল প্রকল্পে মহাসড়কটির মির্জাপুরের গোড়াইয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল না। জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় টাঙ্গাইলের একমাত্র শিল্পাঞ্চল হিসেবে গোড়াই এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। প্রায় তিন বছর আগে গোড়াইয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে মহাসড়কের ওপর প্রাচীর (ভার্টিক্যাল ওয়াল) নির্মাণ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ কাজ শেষ করে গত ১৩ জানুয়ারি ফ্লাইওভারটির মূল কাজ শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় মহাসড়কের ওই অংশে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আসন্ন ঈদে তা চরম দুর্ভোগে পরিণত হবে বলে অনেকে মন্তব্য করছেন।
গত রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের ওই স্থানে রাস্তার দুই পাশের লেন ধরে যানবাহন চলছে। বিধিনিষেধের মধ্যে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও পণ্যবাহী যানবাহনকে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের দুই পাশে এসে গতি কমিয়ে চলতে হচ্ছে। আর ফ্লাইওভারটির পূর্বপাশ চাপা হওয়ায় ঢাকামুখী একটি করে যানবাহন চলছে। এর দুই পাশেই যানবাহন ইউটার্ন নিচ্ছে। শ্রমিকেরা ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় কয়েক বাসিন্দা বলেন, ফ্লাইওভারের মাঝামাঝি উভয় পাশ থেকে পথচারীদের পায়ে হেঁটে রাস্তা পারাপারের জন্য যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। কারখানার শ্রমিকেরা ওই স্থান ছাড়াও ফ্লাইওভারটির দুই পাশ দিয়ে যাতায়াত করেন। এতে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। রাস্তার দক্ষিণ পাশে ফুটপাত ও দোকানগুলোর সামনে বাজার বসে। এ জন্য দক্ষিণ পাশের লেনে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের ফাস্ট ট্র্যাকের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি মির্জাপুর থেকে গোড়াই গিয়ে প্রতিদিন অফিস করেন। যানবাহনের চাপে স্বাভাবিক সময়ে ফ্লাইওভারটির এলাকা পাড়ি দিতে এক থেকে দেড় মিনিট সময় লাগে। তবে একটু যানজট হলেই তা ২০-২৫ মিনিট লেগে যায়। ঈদের সময় যানজটের ভয়ংকর পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে। ফ্লাইওভারের দুই পাশে গাড়ির ইউটার্ন নেওয়াসহ উল্টোপথে রিকশা চলাচলের জন্য যানজটের সৃষ্টি হয়ে থাকে।

গাড়িচালক মিঠুন কুমার বলেন, ‘ঈদের সময় রাস্তায় গাড়ি বাড়ে। রাস্তার নানা জায়গায় জাম (যানজট) হয়। এবার কোরবানির ঈদে চান্দরার (গাজীপুরের চন্দ্রা) পর থিক্যা টাঙ্গাইলের মধ্যে গোড়াইতেই জাম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি আছে।’

মুঠোফোনে মির্জাপুরের কুর্নী থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পর্যন্ত চার লেন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বরকত মো. খুরশিদ আলম বলেন, ‘এরই মধ্যে ফ্লাইওভারটির প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, দ্রুত কাজ শেষ করতে। এ জন্য লকডাউনের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশেষ ব্যবস্থায় কাজ করা হচ্ছে।’

ঈদের সময় যানজটের আশঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ফ্লাইওভারের পূর্ব পাশে ঢাকার দিকে যাতে পাশাপাশি দুটি গাড়ি চলতে পারে, সে জন্য রাস্তার পাশে কিছু এলাকায় হেরিং বন্ড করা হচ্ছে। আর ফ্লাইওভারের দক্ষিণ পাশে থাকা বাজারটি যাতে ঈদের সময় না বসতে পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হবে।’

মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক জানান, ঈদের সময় মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে গোড়াই এলাকায় পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষ বসানো হবে। পুলিশ সার্বক্ষণিক টহল দেবে। নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের দক্ষিণ পাশে বাজার বসতে দেওয়া হবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন