বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেতাগী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিলবুনিয়া গ্রামে মকবুল হাওলাদারের বাড়ি। ছোট মেয়ে মিমের বয়স যখন ছয় বছর, তখন মকবুলের স্ত্রী মারা যান। অভাবের সংসারে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিলেও হাতে বই তুলে দিতে পারেননি মকবুল। পেটের টানে চার ছেলে অনেক আগেই ঢাকায় পাড়ি জমায়। দারিদ্র্যের ঘূর্ণিপাকে বাস করা মকবুলের বসতঘরটি গত বর্ষায় ভেঙে যায়। এরপর প্রতিবেশী খালেক হাওলাদারের গোয়ালঘরে ঠাঁই হয় বাবা–মেয়ের। গোয়ালঘরের এক পাশে এলোমেলো পুরোনে কাপড়চোপড়, অন্য পাশে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা হাঁড়ি-পাতিল নিয়েই দিন কাটছে মকবুলের।

স্থানীয়রা জানান, মকবুলের ছেলেরা তাঁদের কোনো খোঁজখবর নেয় না। দারিদ্র্যের কারণে তাই অসুস্থ শরীর নিয়ে লাঠি এবং মেয়ের কাঁধে ভর দিয়ে পেটের তাগিদে গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করেন মকবুল। মানুষের কাছে হাত পেতে যদি কিছু জোটে, তা দিয়েই বাবা–মেয়ের পেট চলে। যেদিন শরীর ভালো থাকে না, সেদিন মকবুল গ্রামেও বের হতে পারেন না। উপোস থাকতে হয় বাবা-মেয়েকে।

মকবুল হাওলাদার (৭৫) বলেন, ‘মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এই শীতে রাতে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। টাকার অভাবে ঘর তুলতে পারি নাই।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল বলেন, বৃদ্ধ মকবুল তাঁর ছোট মেয়েকে নিয়ে খুব মানবেতর জীবনযাপন করছে। মকবুলকে অর্থ, পোশাক দিয়ে সাহায্য করায় এবং বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে মেয়র মানবিক কাজ করেছেন।

পৌর মেয়র এ বি এম গোলাম কবির প্রথম আলোকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বৃদ্ধ মকবুল ও তাঁর মেয়ের মানবেতর জীবনযাপনের কথা জানতে পারেন। শুক্রবার সেখানে গিয়ে তাঁদের অর্থ ও কম্বল দিয়ে এসেছেন। তাঁদের একটি ঘর তুলে দিতে শুক্রবার বিকেলেই তিনি ইট পাঠিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাঁদের ঘর তুলে দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন