বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে আজ বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়, ওজন স্কেলে ওঠার আগে সৃষ্ট বড় বড় গর্তে পাথর আর খোয়া সরে রড উঁকি দিচ্ছে। রড এমনভাবে বের হয়েছে, অসাবধানতাবশত গাড়ির চাকা সেখানে পড়লে ফুটো হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা পণ্যবাহী গাড়ি মহাসড়ক ধরে ওজন স্কেলে ওঠার আগে অনেক দূর থেকে গাড়ির গতি কমিয়ে এগোতে হয়। গতি না কমালে যেকোনো মুহূর্তে গর্তে চাকা পড়ে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

default-image

সাতক্ষীরা থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের চালক সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচল করি। বেশ কিছুদিন ধরে ওজন স্কেলে ওঠার আগে পাথর ও খোয়া ভেঙে গর্ত তৈরি হয়েছে দেখছি। গর্তগুলোর এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে স্কেলে উঠতে গেলেই বুকে ভয় লাগে। যদি চাকার ভেতর কোনো রড ঢুকে যায়, তাহলে তো এখানেই বসে পড়তে হবে। তাই খুবই সাবধানতার সঙ্গে স্কেলে উঠতে হয়। যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’

ফরিদপুর থেকে আসা কাভার্ড ভ্যানের চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে ঢাকায় যাওয়ার পথে স্কেলে উঠতে গিয়ে গর্তে চাকা পড়ে পাশের খাদে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অল্পের জন্য গাড়ি উল্টে যায়নি। সড়কের দুই পাশে প্রায় তিন ফুট করে গর্ত হয়েছে। ফলে মহাসড়ক সরু হয়ে গেছে। এরপর ওজন স্কেলে উঠতে গিয়ে কয়েকটি গর্তকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় খাদে উল্টে পড়ার উপক্রম হয়। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়ক, সেখানে যদি এমন নাজুক অবস্থা থাকে, তাহলে চলে কীভাবে?

default-image

ওজন স্কেলের কাউন্টারে কর্তব্যরত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. সোহেল রানা বলেন, প্রায় এক বছর ধরে স্কেলের দুই পাশের অন্তত ১০০ মিটার জায়গায় গর্ত ও খানাখন্দ হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার ইট ফেলে প্রাথমিক সংস্কার করা হয়। কিন্তু দু-চার দিন পর আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

মো. সোহেল রানা আরও বলেন, স্কেলটি বসানোর সময় যেভাবে কার্পেটিং করে সড়কটি করেছিল, এর পর থেকে আর ওই রকম কাজ হয়নি। বড় গর্ত হলেই সেখানে ইট ফেলা হয়। এতে কয়েক দিন টিকতে পারে। এখন গর্ত থেকে লোহার রড বের হয়ে আছে। মাঝেমধ্যে গাড়ির চাকা পড়ে সমস্যা দেখা দেয়। সড়কের দুই পাশে জায়গা না থাকায় গর্তকে পাশ কাটিয়ে স্কেলে উঠতে গেলে পাশের খাদে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. জিল্লুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং এলজিইডির সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলিত ব্যয়সংক্রান্ত ধারণা পেয়েছেন। এতে ১০ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ হলে সমস্যা অনেকটা কমবে। চলতি মাসের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন