বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লিখিত অভিযোগে রেজাউল করিম বলেন, পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কুমড়াকান্দি গ্রামের মল্লিকপাড়ায় তাঁর বাবা ওমর আলী মল্লিকের ১৫ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমি নিয়ে বিরোধের কারণে স্থানীয়ভাবে মাপজোখের জন্য তাঁরা ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহিন মোল্লার কাছে যান। জমিটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁর বাবা ওমর আলী। এই সুযোগে কাউন্সিলর তাঁর কাছে জমি বিক্রি করতে বলেন। সে কথায় রাজি হয়ে প্রতি শতাংশ জমি দেড় লাখ টাকা দরে মোট ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। কাউন্সিলর ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ১ লাখ টাকা প্রদান করে চক্রান্ত করে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে একজন দলিল লেখক দিয়ে নিজের নামে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অর্থাৎ আম মোক্তারনামায় সাক্ষর করিয়ে নেন। বাকি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা কাউন্সিলর শাহিন অন্য মালিকের কাছে বিক্রি করার পর দেওয়ার কথা জানান। এ অবস্থায় সেই জমি পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষমতাবলে কাউন্সিলর শাহিন অন্যত্র বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা পান। বিষয়টি জানার পর টাকা দাবি করলে টাকা না দিয়ে উল্টো নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করছেন। বাধ্য হয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলামের শরণাপন্ন হন তাঁরা।

কাউন্সিলর ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ১ লাখ টাকা প্রদান করে চক্রান্ত করে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে একজন দলিল লেখক দিয়ে নিজের নামে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অর্থাৎ আম মোক্তারনামায় সাক্ষর করিয়ে নেন।

অভিযোগ পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলাম অভিযুক্ত কাউন্সিলর শাহিন মোল্লাকে নিয়ে বসে সালিসের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেন। এ সময় প্রতিবন্ধী ওমর আলীকে জমি ফিরিয়ে দিতে বলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। কিন্তু কাউন্সিলর শাহিন সালিস অগ্রাহ্য করে চলে যান।

সংবাদ সম্মেলনের এ পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ওমর আলী সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা করেন। এ সময় উপস্থিত তাঁর ছেলে রেজাউল করিম মোল্লা বলেন, ‘আমরা এক ভাই ও এক বোন। আমি দেশের বাইরে ছিলাম। চার মাস আগে দেশ ফিরেছি। দেশে ফেরার আগেই প্রতিবন্ধী বাবা অসুস্থ হওয়ায় এবং পরিবারের টাকার প্রয়োজন হওয়ায় কাউন্সিলর শাহিনের শরণাপন্ন হলে তিনি নিজেই দখলের চেষ্টা করেন। আমরা এর সঠিক বিচার দাবি করছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাউন্সিলর শাহিন মোল্লা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শারীরিকভাবে অসুস্থ ওমর আলী মোল্লা অন্তত ১৫ দিন ঘুরে আমাকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেন। পরে তাঁর প্রয়োজনে আমি নগদ এক লাখ টাকা এবং আড়াই লাখ টাকার একটি চেক দিয়েছি। বর্তমানে জমি ওভাবেই পড়ে আছে। তাঁর সঙ্গে কথা ছিল, জমি বিক্রি করে টাকা দিয়ে দিব। এখনো জমি বিক্রি করতে পারলাম না, অথচ আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ শুরু হয়েছে। বরং শুনেছি, এক-দুই দিন আগে স্থানীয় কিছু ছেলেপেলে ২০ লাখ টাকা জমির মূল্য নির্ধারণ করে নগদ ১০ লাখ টাকা প্রদান দেখিয়ে একটি বায়নানামা বা চুক্তিপত্র করেছে, যার প্রমাণপত্র আমার কাছে আছে। ওই চক্রই তাঁকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করাচ্ছে। আদৌ এর কোনো সত্যতা নেই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন