স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহের সঙ্গে উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য মো. জিয়া সরদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে ইতিমধ্যে একাধিকবার উভয়ের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

জিয়া সরদারের সমর্থক ও মামাতো ভাই মো. নিলয় হাওলাদার (১৭) জানান, মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজে ভর্তির হওয়ার জন্য মা রুমা বেগম (৩৫) ও চাচা তরিকুল ইসলাম হাওলাদারকে (২৯) নিয়ে মোটরসাইকেলে গতকাল বাড়ি থেকে রওনা দেন তিনি। বেলা ১১টার দিকে কলেজের পাশে মন্দিরের সামনে পৌঁছালে ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাঁর পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার একপর্যায়ে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা জিয়া তাঁর কী হয়, সেটা জানতে চান। জিয়া তাঁর ফুফাতো ভাই শোনার সঙ্গে সঙ্গে সৈকত গুহ লাথি দিয়ে মোটরসাইকেল থেকে তাঁদের তিনজনকে ফেলে দেন। উঠে দাঁড়াতেই চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পলাশ, রুবেলসহ ৯-১০ জন সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তাঁদের জখম করে। তখন রক্ষা করার জন্য তাঁর মা ও চাচা এগিয়ে এলে তাঁদেরও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।

default-image

নিলয় হাওলাদারের মা রুমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ছেলে নিলয়কে মারতে মারতে অজ্ঞান করে ফেললে তিনি চেয়ারম্যান সৈকত গুহের পা ধরে প্রাণভিক্ষা চান। তখন তিনি তাঁকে লাথি মেরে পেটানো শুরু করেন। মারতে মারতে তাঁর বোরকা ছিঁড়ে ফেলেন। একপর্যায়ে ছেলের মোটরসাইকেলটি রিকশায় তুলে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সামনে নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। শত শত মানুষ এ দৃশ্য দেখলেও চেয়ারম্যানের ভয়ে তাঁদের রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসেননি।

অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ প্রথম আলোকে বলেন, হামলা কিংবা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। শুনেছেন, নববর্ষের শোভাযাত্রায় এক ছাত্রীকে নিলয় নামের এক বখাটে উত্ত্যক্ত করেছে। তখন স্থানীয় লোকজন তাঁকে মারধর করেছেন।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় নিলয় হাওলাদারের মা রুমা বেগম বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে নয়জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। আজ এজাহারে উল্লিখিত আসামি পলাশ (২৭) ও রুবেলকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন