default-image

বরিশালের গৌরনদী পৌরসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার রাতে পৌর এলাকার আশোকাঠী, টিখাসার ও টরকী এলাকায় একটি বাড়ি, দুটি মোটরসাইকেল, টরকীরচর এলাকায় একটি দোকান ভাঙচুর হয়েছে। এসব ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, একই ওয়ার্ডের পরাজিত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন পরাজিত হওয়ার জন্য রফিকুলকে দায়ী করেন। ফল ঘোষণার পর শনিবার রাতে দেলোয়ার ২০–২৫ জন সমর্থককে নিয়ে রফিকুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘর–দরজা ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। এ সময় সুলতানা বেগম (৩৫), তানজিলা আক্তারসহ (৩২) তিনজন আহত হয়েছেন।

ওই ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর সাখাওয়াৎ হোসেনের অভিযোগ, শনিবার রাত পোনে ৯টার দিকে ভোট গণনা শেষে বাড়ি ফেরার পথে আশোকাঠী মোল্লাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পরাজিত প্রার্থী দেলোয়ারের নেতৃত্বে ১৫–২০ জন অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে সাখাওয়াতের সমর্থক সুমন খান (৩৫), রাব্বি হাওলাদার (২৫), মিজু সরদার (৩০) ও বাদশা সরদারকে (৩৫) কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে গুরুতর আহত সুমন খানকে বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘হামলা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।’

৫ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ফলাফল ঘোষণার পর রাত ৯টায় পরাজিত প্রার্থী রেজাউল করিমের সমর্থকেরা টিখাসার গ্রামে তাঁর সমর্থক বনি আমিন (২৫), মান্নান সরদার (৩৫), সুমন বয়াতি (২৬), রুবেল সরদার (৩৬) ও সিদ্দিকুর রহমানকে (৬৫) কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছেন।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়ী কাউন্সিলর প্রার্থী খাইরুল খানের ৮–১০ জন সমর্থক টরকীরচর এলাকায় হামলা চালিয়ে পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী আ. হাকিম খানের সমর্থক আতা মোল্লার বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ও ওমর মোল্লার দোকান ভাঙচুর করেছেন। এ সময় হামলাকারীরা আতা মোল্লার পাকা ভবনের দেয়ালে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটায়। ককটেলের শব্দে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহীদুজ্জামান বলেন, পুলিশের তৎপরতায় নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতা রোধ করা হয়েছে। তারপরও বিক্ষিপ্তভাবে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। পরাজিত প্রার্থী রফিকুল ইসলামের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর মা নিলুফা বাদী হয়ে রোববার একটি মামলা করেছেন। বাকি ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন