গৌরনদীতে বন্যায় নিম্নাঞ্চল তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি

বিজ্ঞাপন
default-image

দুই দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বরিশালের গৌরনদী পৌরসভাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আড়িয়াল খাঁর শাখা পালরদী নদীতে পানি বেড়ে বিভিন্ন খাল ও নদীর দুই তীর উপচে বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। এতে কয়েক শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

বন্যাকবলিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবারই বন্যায় মাদারীপুর প্লাবিত হওয়ার ১০–১৫ দিন পর গৌরনদীতে বন্যা দেখা দেয়। এবার ইতিমধ্যে বন্যায় মাদারীপুরের শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে গত মঙ্গলবার থেকে গৌরনদীতে বন্যা দেখা দিয়েছে।

বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর, ভূরঘাটা, বাকাই, মেদাকুল, দোনার কান্দি, মাগুরা মাদারীপুর, বার্থী ইউনিয়নের কটকস্থল, গোরক্ষডোবা, বাউরগাতি, বড়দুলালী, দক্ষিণ মাদ্রা, ধানডোবা ও চাঁদশী ইউনিয়নের চাঁদশী, উত্তর চাঁদশী, দক্ষিণ চাঁদশী, নাঠৈ এলাকার নিম্নাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া গৌরনদী পৌরসভার সুন্দরদী, টরকীরচর, টিকাশার বিভিন্ন বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এসব এলাকার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। রোপা আমন ধানের চারা এখন পানিতে তলিয়ে আছে। এ ছাড়া এ অঞ্চলের প্রধান কৃষি ফসল পানের বরজে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়া পরিবারগুলো দুর্ভোগে পড়েছে।

পানচাষি চাঁদশী গ্রামের স্বপন সরদার (৩৭) বলেন, তিনি সোমবার পানের বরজে কাজ করে বাড়িতে চলে যান। মঙ্গলবার সকালে গিয়ে দেখেন, পানের বরজে পানি ঢুকে পড়েছে। প্রথমে তিনি সেচপাম্প দিয়ে বরজ থেকে পানি অপসারণের চেষ্টা করেন। কিন্তু পানির চাপ বেশি থাকায় শেষ রক্ষা আর হয়নি। প্রায় ৫ লাখ টাকার পানের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন এই পানচাষি।

একইভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কমলাপুর গ্রামের জালাল ব্যাপারী (৩৪), কেতাব আলী সরদার (৪২), বড়দুলালী গ্রামের আবদুর রশিদ হাওলাদারসহ (৩১) অনেকেই। পৌর এলাকার বানীয়াশুরী মহল্লার পলাশ তালুকদার (৩৫) প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, গ্রামের সব বাড়িতে পানি উঠে গেছে। প্রতিটি পরিবারই এখন পানিবন্দী। আমনের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

গ্রামের মৎস্য খামারি হাবুল হাওলাদার (৩২) বলেন, ‘সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল। মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি, আমার মৎস্য ঘেরে পানি ঢুকে পড়েছে। সব মাছ ভেসে গেছে। আমার মতো গৌরনদীর প্রায় ৫০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, গৌরনদীতে বন্যায় পান বরজসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা মোকাবিলায় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন