বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নিহত হারুন হাওলাদারের ছোট ভাই সালাউদ্দিন হাওলাদার (৪০) বোমা তৈরির সময় তাঁর ভাইয়ের আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে বোমা তৈরির সময় আহত হন তাঁর ভাই। গৌরনদী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান ওরফে ফরহাদ মুন্সীর মালিকানাধীন বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্র ফায়িয়া গার্ডেন পার্কের একটি পরিত্যক্ত টিনের বোমা বানানোর কাজ চলছিল। এ সময় তাঁর ভাই ছাড়াও কাওছার ফকির, রায়হান ফকিরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

বোমার বিস্ফোরণে তাঁর ভাই হারুনের দুই হাত উড়ে যায় এবং মুখমণ্ডল ঝলসে যায়। পুলিশের ভয়ে আহত ব্যক্তিরা গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। হারুন হাওলাদারকে প্রথমে বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে শনিবার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার ভোররাতে হারুন মারা যান। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তাঁদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

গৌরনদী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামানের মালিকানাধীন বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্র ফায়িয়া গার্ডেন পার্কের একটি পরিত্যক্ত টিনের বোমা বানানোর কাজ চলছিল।

গোপনে বোমা তৈরির ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমাম হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে গতকাল থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেন বলেন, আসামিরা হলেন হারুন হাওলাদার, কাওছার ফকির, রায়হান ফকির, মো. শিবলী সাদিক, কাজল হাওলাদার, ঢাকার ব্যবসায়ী শারীরিক প্রতিবন্ধী শাহিন হাওলাদার, ফায়িয়া গার্ডেন পার্কের ম্যানেজার হারুন আর রশিদ ঘরামি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবদুর রহমান মীর, পার্কের চায়ের দোকানদার আবদুল আজিজ ও তাঁর ছেলে জাদুশিল্পী মো. মহাসিন। মামলার বাদী বলেন, গ্রেপ্তার আসামি পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবদুর রহমানের দেওয়া তথ্যমতে তাঁদের আসামি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ফায়িয়া গার্ডেন পার্কের মালিক গৌরনদী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান ওরফে ফরহাদ মুন্সী বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি ঢাকায় ছিলাম। বোমা বানানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পাকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঢুকে পরিত্যক্ত ঘরটিতে বোমা বানান।’

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন বলেন, বোমা তৈরির ঘটনায় করা মামলায় বোমা তৈরির কারিগর হারুন হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছিল। তিনি মারা গেছেন। এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন