পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তর এই পাঁচটি ইটভাটাকে মোট ২৪ লাখ টাকা জরিমানাসহ আগুন নিভিয়ে এবং স্থাপনা ভেঙে দিয়ে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।

তবে ভুক্তভোগী কৃষকদের মধ্যে চান মিয়া নামের একজন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাইঙা কই দেয়? খালি কোনাকাঞ্চি ভাঙে। পরদিনই তো ঠিক কইরা ইট পুড়া শুরু করে। পরে তো আর কারও কোনো খোঁজ থাকে না।’

মধুডাঙ্গা এলাকার কৃষক ফজল হক (৫৫) বলেন, ঈদের দু-তিন দিন আগের রাতে মক্কা-মদিনা ব্রিকসের ইট পোড়ানোর কাজ শেষে ভাটার আগুন নিভিয়ে দেয় মালিকপক্ষ। পরদিন তিনি এসে দেখেন, তাঁর জমির ধানের অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ধান কাটার পর গত সোমবার মাড়াই ও ঝাড়াইয়ের পর দেখেন অধিকাংশই চিটা। আরেক কৃষক মো. হুমায়ুনের আড়াই বিঘা জমির ধানও নষ্ট হয়ে গেছে।

মেসার্স মক্কা–মদিনা ব্রিকসের ব্যবস্থাপক ফিরোজ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, চুল্লির আগুন নেভানোর আগে চুল্লির নিচে পানি দিতে হয়। না দিলে ভাটা থেকে চিমনি দিয়ে কয়লার আগুনের ফুলকি বের হয় বাতাসে উড়ে যে জমিতে গিয়ে পড়ে, সে জমিরই ক্ষতি হয়।

ফিরোজ আহমেদের দাবি, চুল্লি নেভানোর ১৫ দিন আগেই তাঁরা পানি দিয়েছিলেন। অনেকেই তা করেন না। তবু তাঁরা কৃষকদের বলেছেন, যেসব ভাটা দায়ী হবে, তাদের সঙ্গে তারাও ক্ষতিপূরণ দিতে প্রস্তুত।

এদিকে গত রোববার এই পাঁচ ইটভাটার কারণে মধুডাঙ্গা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ৭০০ শতক (১৭ একর) জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। ইতিমধ্যে বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রকৃত তথ্য পাওয়ার পর কৃষকদের সহায়তা ও অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আর ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হাসান বলেন, দু-এক দিনের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কতটুকু জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন, ইটভাটার আগুন নেভানোর সময় অতিরিক্ত তাপ ও গত কয়েক দিনে পরিবেশের তাপমাত্রা বেশি থাকায় ধানের ক্ষতি হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন