বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারের পর নীলগাইটি বিজিবির সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় নীলগাইটির দেহের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্ত ঝরছিল।

বিজিবির ঠাকুরগাঁও ৫০ ব্যাটালিয়নের হরিপুর কারিগাঁও কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার কফিল উদ্দিন বলেন, নীলগাইটি মিনাপুর সীমান্তে ভারতীয়দের তাড়া খেয়ে কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে ঢোকে। পরে ভবানন্দপুরের গ্রামবাসীর হাত থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় সেটাকে উদ্ধার করা হয়।

হরিপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, উদ্ধারের সময় নীলগাইটির মুখ, পা ও পেট দিয়ে রক্ত ঝরছিল। কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে আসার সময় নীলগাইটি আহত হয়েছিল। এর ওপর তাকে ধরতে গ্রামের লোকজনের দৌড়াদৌড়ি-চিৎকার প্রাণীটিকে আতঙ্কিত করে ফেলে। উদ্ধারের পর নীলগাইকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি। মৃত নীলগাইটি ধূসর রঙের পুরুষ প্রজাতির।

হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল করিম বলেন, বাংলাদেশে বিলুপ্ত প্রজাতির নীলগাই অনেক আগেই আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল খাতায় নাম লিখিয়েছে। নীলগাইটিকে সুস্থ করে তুলতে পারলে ভালো লাগত। পরে নীলগাইটিকে বিজিবি ক্যাম্পে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

দেখতে গরুর মতো না হলেও নাম তার নীলগাই। এটি দেখতে বরং অনেকটা ঘোড়ার মতো। এর বৈজ্ঞানিক নাম boselaphus tragocamelus. এটির গায়ের রংকে নীলও বলা যাবে না। পুরুষ নীলগাই গাঢ় ধূসর, প্রায় কালচের কাছাকাছি আর মেয়ে নীলগাইয়ের রং লালচে বাদামি।

বাংলাদেশে একসময় নীলগাইয়ের দেখা পাওয়া যেত হরহামেশা। শত বছর আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায়; বিশেষ করে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে প্রচুর নীলগাই দেখা যেত। কিন্তু পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে ১৯৪০ সালের পর থেকে এ দেশের বনাঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রাণীটিকে আর তেমন দেখা যায় না। তাই নীলগাইকে এই দেশে বিলুপ্ত প্রাণী ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশে নীলগাইয়ের দেখা না পাওয়া গেলেও পাশের দেশ ভারতে প্রায় এক লাখ নীলগাই আছে। এখন মাঝেমধ্যে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে নীলগাই ভারত থেকে বাংলাদেশে চলে আসে।

গত ২ জুলাই ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার মুক্তারবস্তি এলাকায় গ্রামবাসীর তাড়া খেয়ে মারা যায় আরেকটি নীলগাই। ২৩ ফেব্রুয়ারি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শৌলাদোগাছি এলাকায় জবাই করার সময় গ্রামবাসীর হাত থেকে একটি নীলগাই উদ্ধার হয়। পরে সেটাকে বিজিবি ক্যাম্পে রেখে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলা হয়। এর আগে ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রানীশংকৈলের যদুয়ার গ্রামে একটি স্ত্রী নীলগাই ধরা পড়ে। পরে অবশ্য সেটি মারা যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন