বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পঞ্চায়েত থেকে বাদ পড়া পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হয়েছে ১১ নভেম্বর। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন চারজন। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু। এর বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নূর মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা শামীমুল ইসলাম ও আবদুর রাজ্জাক। এর মধ্যে শামীমুল ইসলাম জয়ী হয়েছেন। অন্য প্রার্থী নূর মিয়ার বাড়ি রাজনপুর গ্রামে। ভোটের আগে রাজনপুর গ্রামের লোকজন মিলে বৈঠক করে তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা এবং তাঁর মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ভোটের পর গ্রামের বাসিন্দা ছমির উদ্দিনের ডাকে পঞ্চায়েতের লোকজন গত শনিবার রাতে বৈঠক করেন। বৈঠকে ঘোষণা দেওয়া হয়, সাত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের অন্যরা কথা বললে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হবে।
ভুক্তভোগী আকরামুল হক

কিন্তু গ্রামের কয়েকটি পরিবার, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং নৌকার প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে সম্পর্কিত, তারা নূর মিয়ার পক্ষে ছিল না। এর মধ্যে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আকরামুল হক ওরফে সোহেল, গ্রামের বাসিন্দা হবিবুর রহমান, লুৎফুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, শফিক মিয়া, জুবের হেলাল ও আলীরাজের পরিবার রয়েছে।

ভুক্তভোগী আকরামুল হকের ভাষ্য, ভোটের পর গ্রামের বাসিন্দা ছমির উদ্দিনের ডাকে পঞ্চায়েতের লোকজন গত শনিবার রাতে বৈঠক করেন। ওই বৈঠক থেকে নূর মিয়ার পক্ষে না থেকে নৌকার পক্ষে কাজ করা এবং নৌকায় ভোট দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের পঞ্চায়েত থেকে বাদ দেওয়া হয়। বৈঠকে ঘোষণা দেওয়া হয়, সাত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের অন্যরা কথা বললে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হবে।

ওই সাতজন নির্বাচনের শুরু থেকেই নানাভাবে গ্রামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। মারামারিও হয়েছে। তাই যাতে আর কোনো অঘটন না ঘটে, এ জন্য গ্রামের মানুষকে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে চলাফেরা না করতে বলা হয়েছে।
নূর মিয়া, রাজনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একজন

আরেক ভুক্তভোগী লুৎফুর রহমানের ভাষ্য, তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা। দোহালিয়া বাজারে তিনি সবজির ব্যবসা করেন। পঞ্চায়েতের সিন্ধান্তের পর তাঁর দোকানে কেউ সবজি কিনতে আসেননি। তিনি গ্রামের মসজিদ কমিটির সদস্য ছিলেন, এই কমিটি থেকেও তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পঞ্চায়েতের বাদ মানে একঘরে করে রাখা। আমরা সারা জীবন নৌকায় ভোট দিয়েছি। এর আগে কখনো এমনটা হয়নি। এই কয়েক দিনে আমার ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়েছে।’
ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমানের ভাষ্য, ‘জরিমানার ভয়ে বাজারের দোকানিরা আমাদের কাছে জিনিসপত্র বিক্রি করছেন না। আবার আমরাও কোথাও যেতে পারছি না। সবাই আমাদের এড়িয়ে চলছেন।’

দোহালিয়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, নৌকার পক্ষে থাকায় রাজনপুর গ্রামের সাতটি পরিবারকে একঘরে করার বিষয়টি অন্যায়। যাঁরা এটা করেছেন, তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নামধারীরাও আছেন।

তবে পঞ্চায়েত থেকে সাতটি পরিবারকে বাদ দেওয়া বা একঘরে করে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা মো. নূর মিয়া ও ছমির উদ্দিন। নূর মিয়া বলেছেন, ‘আমি নিজেও আওয়ামী লীগ করি। নির্বাচনে পক্ষ-বিপক্ষ থাকবেই, এটা কোনো সমস্যা নয়। যাঁদের নিয়ে কথা হচ্ছে, ওই সাতজন নির্বাচনের শুরু থেকেই নানাভাবে গ্রামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। মারামারিও হয়েছে। তাই যাতে আর কোনো অঘটন না ঘটে, এ জন্য গ্রামের মানুষকে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে চলাফেরা না করতে বলা হয়েছে। তাঁদের পরিবারের অন্যদের সঙ্গে চলতে-ফিরতে কোনো বাধা নেই। এখন এটাকে তাঁরা একটা ইস্যু বানানোর চেষ্টা করছেন।’

নৌকার পক্ষে থাকায় রাজনপুর গ্রামের সাতটি পরিবারকে একঘরে করার বিষয়টি অন্যায়। যাঁরা এটা করেছেন, তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নামধারীরাও আছেন।
আনোয়ার হোসেন, দোহালিয়া ইউপির চেয়ারম্যান

দোয়ারাবাজার উপজেলার ইউএনও দেবাংশু কুমার সিংহ প্রথম আলোকে বলেছেন, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। আজই ওই গ্রামে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেব দুলাল ধর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন