বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাজশাহী সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮৭টি, ৯টি উপজেলার ৭৩টি ইউনিয়নে ও ৪৫টি পৌরসভায় টিকাকেন্দ্র খোলা হয়েছিল। আজ সারা দিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজশাহী মহানগরের কেন্দ্রগুলোতে টিকা নিতে তেমন লোকজন ভিড় করেননি। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাপক ভিড় হয়েছে।

সকাল সাড়ে আটটায় জেলার পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের টিকাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, টিকা নিতে আসা মানুষের সারি রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে এসে ঠেকেছে। একই অবস্থা দেখা গেছে, চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছি ইউনিয়ন পরিষদ ও ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রে।

সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়েছে ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রে। কেন্দ্রের বাইরে টিকা নিতে আসা মানুষের ভ্যান ও রিকশার ভিড়ের কারণে রাস্তায় যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পরিষদের সামনে থেকে মানুষের সারি পাশের ডাকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে চলে গেছে।

আবার ভায়ালক্ষ্মীপুর  ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডের টিকাকেন্দ্র করা হয়েছিল ডাকরা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির মাঠে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ভিড়ের মধ্যে টিকতে না পেরে বাইরে এসে বসে ছিলেন পান্নাপাড়া গ্রামের রকসেদ আলী (৫০), শাহনাজ বেগম (৪০) ও রায়পুর গ্রামের জিল্লুর রহমান (৪৫)। তাঁদের সবার একই কথা, ভিড় শেষ হলে টিকা নিয়েই বাড়িতে যাবেন। কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেই ওই কেন্দ্রের টিকা ফুরিয়ে যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেলা একটা পর্যন্ত মানুষ টিকা নেওয়ার জন্য বসেই ছিলেন।

বেলা সোয়া দুইটার দিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভা চত্বরে এসে দেখা যায়, সকাল আটটা থেকে মানুষের ভিড় একটুও কমেনি। চৌদ্দপাই মহল্লার খুরশিদা বেগম (৪৫) বললেন, সকাল আটটায় এসেছিলেন। ভিড়ের কারণে বেলা দুইটায় টিকা নিতে পেরেছেন।

বাখরাবাজ মহল্লার গৃহবধূ ইসমত আরা বললেন, সকাল সাড়ে সাতটায় তিনি এসেছিলেন। তিনি বাড়ি যাওয়ার জন্য একটি অটোরিকশায় উঠে বসেছিলেন। তখন বেলা ২টা ১৯ মিনিট। তিনি বললেন, টিকা দিয়ে রাস্তা পার হয়ে এই মাত্র রিকশায় এসে বসেছেন। শ্যামপুর মহল্লার বিউটি খাতুন সকাল সাতটায় এসেছিলেন। তিনি বেলা দুইটার কিছুক্ষণ আগে টিকা দিতে পেরেছন। ওই সময় পৌরসভা চত্বরে ঢুকে দেখা যায়, সেখানে নারীদের উপচে পড়া ভিড়। ভিড়ের মধ্যে একটি চেয়ারের ওপরে দাঁড়িয়ে একজনর লোক হ্যান্ডমাইকে নাম ডাকছেন। আর একে একে নারীরা টিকা নেওয়ার জন্য ভেতরে যাচ্ছেন। তখন বাইরে লোকজন বলাবলি করছেন, এই টিকা দেওয়া কখন শেষ হবে কেউ জানে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল ১০টার সময় নগরে দড়িখড়বোনায় ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় কেন্দ্রের সামনে মানুষের কোনো  ভিড় ছিল না। মাঝেমধ্যে একজন-দুজন আসছেন, টিকা নিয়ে চলে যাচ্ছেন। সাড়ে ১০টায় ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় কেন্দ্রের  চিত্র একই রকম ছিল। নগরের ১২ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় কেন্দ্রের কোথাও টিকার জন্য লাইনে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়নি।

রাজশাহী মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স কেন্দ্রে আগের বুথের পাশাপাশি বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির জন্য তিনটি নতুন বুথ করা হয়েছে। দুটি বুথে মাঝেমধ্যে দু–একজন করে এসে টিকা নিয়ে যাচ্ছেন। আরেকটি বুথে কোনো মানুষই ছিলেন না। এই সুযোগে টেবিলে মাথা দিয়ে আয়েশ করছিলেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একজন স্বেচ্ছাসেবক। কেন্দ্রে কেন্দ্রে এই স্বেচ্ছাসেবকেরাই টিকাকার্ড যাচাই-বাছাই এবং লেখালেখির কাজ করে থাকেন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এফ এ এম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, শহরের ৮০ ভাগ মানুষ আগেই টিকা নিয়েছে। সেই জন্য টিকা নেওয়ার চাপ কম। এরপরও বলতে হবে, এবার উপস্থিতি একটু কম।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন