বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভার রামপুরে ঘটে মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনা। সাবরিনা নোয়াখালী-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের পূর্ব পাশ থেকে পশ্চিম পাশে যাচ্ছিলেন ঢাকাগামী বাস ধরার জন্য। এমন সময় কুমিল্লার দিক থেকে উল্টো পথে আসা একটি ইটবাহী ট্রাক সজোরে ধাক্কা দেয় তাঁকে। মাথায় আঘাত পেয়ে সড়কে ছিটকে পড়েন তিনি। মুহূর্তেই তাঁর প্রাণোচ্ছল দেহটি নিথর-নিস্তেজ হয়ে যায়। আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে ঘাতক ট্রাকটি আটক করে। কিন্তু ট্রাকের চালক কিংবা সহকারী কাউকে ধরতে পারেননি তাঁরা।

সাবরিনার মামা আবিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সাবরিনা পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন। ৭ ডিসেম্বর তাঁর মা–বাবার সঙ্গে বেড়াতে সোনাইমুড়ী পৌরসভার রামপুর গ্রামের নানার বাড়িতে আসেন। তাঁর বাবা মর্তুজা ভূঁইয়া ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। গত শুক্রবার তিনি স্ত্রী-সন্তানদের শ্বশুরবাড়িতে রেখে কর্মস্থলে ফিরে যান।

আবিদুর রহমান বলেন, তিন বোনের মধ্যে সাবরিনা ছিলেন সবার বড়। তাঁকে ঘিরে পরিবারের সব স্বপ্ন। কিন্তু ঘাতক ট্রাক তাঁদের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর বিকেলে সাবরিনার লাশ তাঁর রামপুর গ্রামের নানার বাড়িতে নেওয়া হলে মা শাহনাজ বেগমসহ দুই বোন ও স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। আশপাশের মানুষের সান্ত্বনাতেও কোনো কাজ হচ্ছিল না। মা শাহনাজ বেগম ও দুই ছোট বোনের বুকফাটা আর্তনাদে নীরবে চোখের পানি ফেলেন প্রতিবেশীরাও।

সাবরিনার বাবা মর্তুজা ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে তিনি ছোট থেকেই তাদের ঢাকায় রেখেছেন। বড় মেয়ে হিসেবে সাবরিনাকে নিয়ে ছিল অনেক আশা, স্বপ্ন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার পর মেধাক্রমে তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। সাফল্যের সঙ্গে প্রথম দুটি বর্ষ শেষ করেন। তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা ছিল আগামীকাল সোমবার। পরীক্ষায় অংশ নিতেই বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু এটি যে শেষ যাওয়া হবে, তা কে জানত।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে আটটায় সোনাইমুড়ী পৌরসভার রামপুরে সাবরিনার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁর লাশ একই উপজেলার বজরা ইউনিয়নের শিলমুদ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে নয়টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন