বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পিক আওয়ারে ১১০ মেগাওয়াটের বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় ৮৫-৯০ মেগাওয়াট।

পৌর এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, রমজান মাস শুরুর পর থেকে প্রতিদিনই ইফতার, তারাবিহর নামাজ ও সাহ্‌রির সময় লোডশেডিং যেন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিয়মিত লোডশেডিংয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড ওজোপাডিকোর চুয়াডাঙ্গা জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ময়নুদ্দীনও। তিনি বলেন, সাহ্‌রির সময় তেমন সমস্যা হয় না। তবে পিক আওয়ার; অর্থাৎ ইফতার ও তারাবিহর নামাজের সময় চুয়াডাঙ্গা জোনে বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়ায় ১১০ মেগাওয়াট। সেখানে জাতীয় গ্রিড থেকে চার দিন ধরে পিক আওয়ারে সর্বোচ্চ ৮৫ থেকে ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। বাকি ২০ থেকে ২৫ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা শহরের মল্লিকপাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে শতভাগ বিদ্যুৎ-সুবিধা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকেও এর আগে বলা হয়েছে রমজান মাসের তিনটি সময় (ইফতার, তারাবিহর নামাজ ও সাহ্‌রি) কোনো লোডশেডিং থাকবে না। এরপরও কেন লোডশেডিং হচ্ছে বুঝতে পারছেন না।

পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে পৌর এলাকায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

কামরুজ্জামান বলেন, লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি লো ভোল্টেজের কারণে পাম্পহাউসগুলোতে পানি উত্তোলনকারী পাম্প চালু করা যাচ্ছে না। সময়মতো পানি না পাওয়ায় পৌরবাসী পৌরসভাকে দায়ী করছেন। এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি দেওয়া দরকার।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরাঞ্চলে বসবাসকারী ওজোপাডিকোর গ্রাহকদের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকদের দুর্ভোগ অনেকাংশেই বেশি। সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের দীননাথপুর গ্রামের বাসিন্দা বাবু হোসেন জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মুসল্লিরা তীব্র গরমের মধ্যে তারাবিহর নামাজ আদায় করেন।

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান বলেন, গত ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত রোজার প্রস্তুতি সভা থেকে ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানানো হয়।

বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ঝিনাইদহ উপকেন্দ্র থেকে চুয়াডাঙ্গা জোনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। পিজিসিবি ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, গ্যাসের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। আশা করা হচ্ছে দুই-তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন