বিজ্ঞাপন

খাগড়ছড়ি সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে কমলছড়ি ইউনিয়নের মঙ্গলচাঁনপাড়ায় গতকাল শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, ১২ থেকে ৫০ বছরের লোকজন কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে মিলেমিশে ধান কাটছেন। প্রতি দলে রয়েছে ৮ থেকে ১০ জন।

ধান কাটার মূল উদ্যোক্তা খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মনোতোষ ত্রিপুরা বলেন, কলেজ বন্ধ। ঘরে বসে না থেকে গ্রামের লোকদের জন্য কিছু করার চিন্তা থেকে ধান কাটার বিষয়টি মাথায় আসে। এরপর গ্রামের তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে কথা বলে ধান কাটার বিষয়টি কৃষকদের জানানো হয়। এতে কৃষকদের যেমন লাভ হচ্ছে, তেমনি গ্রামের লোকদেরও করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ধান কেটে দিচ্ছি না, মিলেমিশে মাড়াই করে কৃষকের ঘরে ধান তুলে দিয়ে আসছি।’

কৃষক অনিল ত্রিপুরা বলেন, ‘আমার পৌনে তিন একর জমিতে ধান কাটাতে খরচ হতো ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। এবার গ্রামের সবার সহযোগিতায় কোনো টাকা খরচ হয়নি। এমনকি ধান কাটতে এসে ছেলেমেয়েদের নাশতা খাওয়াতে চাইলেও খাওয়াতে পারিনি।’

কৃষক সত্যবান ত্রিপুরা বলেন, ‘দুই একর জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছি। করোনার কারণে গ্রামের লোকজনের কথা চিন্তা করে বাইরে থেকে ধান কাটার শ্রমিক নিয়ে আসতে পারছি না। এদিকে ধান পেকে যাচ্ছিল। এলাকার ছেলেমেয়েরা যখন নিজেরা এসে ধান কাটার কথা বলল, যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছি।’

কমলছড়ি ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চাউপ্রু মারমা বলেন, ‘ধান কাটার বিষয়টি শুনেছি। এটি একটি ভালো কাজ। মঙ্গলচাঁনপাড়ার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন