বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী ঋণগ্রহীতা ও ওই ব্যাংকের শাখায় কর্মরতদের সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ওই শাখায় শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র অফিসার (মাঠ) আজিজুর রহমান। এ সময় তিনি মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কৃষক ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে গ্রাহক ঋণ দেওয়ার কথা বলেন এবং শাখা থেকে সেসব ঋণ পাসও করেন। পরে ওই ঋণগ্রহীতাদের কাছে পারিবারিক সমস্যা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা বলে ঋণের টাকা ধার নেন তিনি। এতে দেখা গেছে, ৩০-৩৫ জন গ্রাহকের প্রায় ৪০ লাখ ঋণের টাকা আত্মসাৎ করেন ব্যাংক কর্মকর্তা আজিজুর রহমান।

বক্তারা বলেন, আজিজুর রহমান প্রতারণা করে তাঁদের প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকে আসছেন না। লিখিত অভিযোগ করেও তাঁরা কোনো সুফল পাননি।

গ্রাহকেরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁকে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে অল্প কিছু টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন আজিজুর। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠকও হয়। কিন্তু টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরত না পেয়ে গ্রাহকেরা রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক হাতীবান্ধা শাখার ব্যবস্থাপক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর থেকে প্রায় এক মাস ধরে ব্যাংকে আসছেন না ওই কর্মকর্তা। এদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আজিজুর ইসলামকে বারবার শাখা কার্যালয়ে আসার নোটিশ দিলেও তিনি শাখা কার্যালয়ে অফিস করছেন না।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এক গ্রাহক সেলিম উদ্দিন বলেন, তাঁর নামে দুই লাখ টাকা ঋণ পাস করেন আজিজুর রহমান। কিন্তু তাঁকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা দেন তিনি। বাকি টাকা কিছুদিন পরে দেবেন বলে সময় নেন। কিন্তু তিনি একের পর এক সময় নিয়েও টাকা দেননি। পরে স্থানীয়ভাবে সমঝোতা বৈঠক হয়। এর পর থেকে ওই কর্মকর্তা আর ব্যাংকে আসছেন না। প্রতিদিন ব্যাংকে তাঁকে না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন। ব্যাংক ব্যবস্থাপক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। এরপরেও এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না।

অপর এক ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার নামে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ পাস করে উত্তোলন করে আমাকে মাত্র ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন আজিজুর রহমান।’ আরেক ভুক্তভোগী শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার নামে চার লাখ টাকা ঋণ পাস হয়। আর আমাকে মাত্র ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দেন। এখনো ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা আজিজুরের কাছে পাব। ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।’

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক হাতীবান্ধা শাখার ব্যবস্থাপক রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার দুই মাস হলো এখানে যোগদান করার। এর আগে তিনি এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। টাকা আত্মসাতের বিষয়ে কয়েকজন গ্রাহক আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। তা ছাড়া আজিজুর প্রায় এক মাস ধরে ব্যাংকে আসছেন না। তাঁকে বারবার ব্যাংকে আসার নোটিশ দিলেও তিনি ব্যাংকে আসছেন না।’

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক লালমনিরহাট আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তিনি অফিস করছেন না এবং আমাদের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন না। আমরা তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন