বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সেরিনা বেগম বলেন, ‘এখন পুলিশের ভয়ে হামার পুরুষও পালিয়্যা আছে। বেটারাও ভয়ে বাড়িতে আসে না। ঘরে তরকারিপাতি নাই। বাজারের দোকানপাট বন্ধ থাকায় কষ্টে আছি।’

ঝিলিম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনে কারচুপির প্রতিবাদ জানাতে ৬ জানুয়ারি বিকেলে হোসেনডাঙ্গা হাজী তাবারক আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হন পরাজিত দুই সদস্য প্রার্থী মনিরুল ইসলাম ও আবদুল কুদ্দুসের সমর্থকেরা। তাঁদের অভিযোগ, এ সময় উপস্থিত জনতার ওপর বেধড়ক লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ। নারীদেরও মারতে শুরু করলে উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপরে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। এ সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ হোসেনডাঙ্গা ও বড় পুকুরিয়া গ্রামের বেশ কিছু বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এক কিশোরসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ উঠেছে, পরাজিত দুই প্রার্থীসহ কয়েকজনের বাড়িতে ভাঙচুরও চালানো হয়। পরে পুলিশ বাদী হয়ে ১৩৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০–২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করে। তখন থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে গ্রাম থেকে পালিয়ে যান বিভিন্ন বয়সী পুরুষেরা।

হোসেনডাঙ্গা হাজী তাবারক আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশে ৭টি ওষুধের দোকান, ১৫–২০টি মুদিদোকান, ৫টি সার, ৩টি হোটেলসহ প্রায় ৪৫টি দোকান আছে। সবই এখন বন্ধ। জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় বাসিন্দাদের এখন শহরে যেতে হচ্ছে। প্রি-পেইড মিটারের বিল পরিশোধ করতে না পারায় বন্ধ আছে বিভিন্ন বাড়ির বিদ্যুৎ–সংযোগ।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত সংরক্ষিত আসনের সদস্য শওকত আরা সুইটি বলেন, পুলিশ বাড়ি বাড়ি ঢুকে যাকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এমনকি গ্রামে বেড়াতে আসা জামাইদেরও মারধর করেছে পুলিশ।

গত রোববার হোসেনডাঙ্গা গ্রাম পরিদর্শন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সাংসদ হারুনুর রশীদ। সোমবার বিকেলে তিনি বলেন, মানুষ দারুণ সংকটের মধ্যে আছে। সরাসরি পুলিশের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ছাড়া বাকিদের হয়রানি না করতে থানার ওসিকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, যাঁরা সাধারণ দোকানদার, তাঁদের দোকান খুলতে কোনো বাধা নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন