বরিশালে পুলিশি নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ এনে সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ। গতকাল বিকেলে নগরের সাগরদী এলাকায়
বরিশালে পুলিশি নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ এনে সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ। গতকাল বিকেলে নগরের সাগরদী এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

বরিশালে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তারের তিন দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন মহানগর ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন আহমেদের বাসায় ইট–পাটকেল নিক্ষেপ করেন। আজ রোববার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরের সাগরদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার দিবাগত রাতে বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেজাউল করিম ওরফে রেজা (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাগরদী বাজারের মাংস ব্যবসায়ী মো. ইউনুস মুনশির ছেলে। তিনি বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর পুলিশের নির্যাতনের কারণেই রেজাউলের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের হামিদ খান সড়কের একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে রেজাউলকে আটক করেন নগর ডিবির এসআই মহিউদ্দিন আহমেদ।

নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, মাদকসহ রেজাউলকে গ্রেপ্তারের পর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তবে অভিযোগ ওঠায় ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে বরিশাল মহানগর পুলিশ।

বিজ্ঞাপন
default-image

স্থানীয় লোকজন জানান, ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে রেজাউল করিমের লাশ নিয়ে বাড়িতে আসেন স্বজনেরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রেজাউলের মৃত্যুর ঘটনায় দোষী পুলিশ সদস্যের বিচার দাবি করে তাঁর লাশ নিয়ে সাগরদী মাদ্রাসাসংলগ্ন মহাসড়কে যান। তাঁরা বাঁশ, কাঠ ফেলে সড়কটি অবরোধ করেন এবং টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে বরিশাল নগরে ছোট যানবাহন ছাড়াও দূরপাল্লার যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সন্ধ্যা ছয়টার পর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই ও সাগরদী এলাকার শের-ই-বাংলা সড়ক এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিনের বাসার সামনে গিয়েও বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ থেকে মহিউদ্দিনের বাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে বাড়িটির বেশ কয়েকটি জানালার গ্লাস ভেঙে যায়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে রেজার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা লাশ নিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। এতে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে আর ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন