গড়াইয়া নাচে মোট ২২টি মুদ্রা আছে। ২২ মুদ্রায় মানবজীবনের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব ক্রিয়াকলাপ প্রদর্শিত হয়ে থাকে। এ নাচে কেউ একবার অংশ নিলে তাঁকে পরপর তিনবার অংশ নিতে হয়। ত্রিপুরাদের বিশ্বাস, নাচের মধ্য দিয়ে গড়াইয়া দেবতা তুষ্ট হন।

ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বৈসু উৎসবের সপ্তাহখানেক আগে থেকে পুরোনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে ত্রিপুরা গ্রামগুলোতে গড়াইয়া নাচ শুরু হয়। ত্রিপুরাদের বিশ্বাস, নাচের মধ্য দিয়ে গড়াইয়া দেবতা তুষ্ট হন। দেবতার সন্তুষ্টিতে পরিবার, এলাকার বাসিন্দা ও সমাজের মধ্যে সুখ-সমৃদ্ধি অটুট থাকে।

গড়াইয়া নাচে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের ‘খেয়েবাই’ বলা হয়। একজন দেওয়াই (দলনেতা) ও একজন আচাই বা ওঝা এ নাচ পরিচালনা করেন। গড়াইয়া নাচে মোট ২২টি মুদ্রা আছে। ২২ মুদ্রায় মানবজীবনের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব ক্রিয়াকলাপ প্রদর্শিত হয়ে থাকে। এ নাচে কেউ একবার অংশ নিলে তাঁকে পরপর তিনবার অংশ নিতে হয়। যদি কেউ অংশ নিতে না পারেন, তাঁকে গড়াইয়া দেবতার কাছে ক্ষমা চাইতে হয়।

default-image

খাগড়াছড়ির ঠাকুরছড়া, খাগড়াপুর, পেরাছড়া, ভাইবোনছড়া ও পানছড়ি খেলাধুলাপাড়া এলাকায় গড়াইয়া নাচের দেখা মিলেছে। যে গৃহস্থের বাড়ির উঠান বড় কিংবা যেখানে লোকসমাগম বেশি, সেখানেই থামছিল গড়াইয়া নাচের দল। সুসজ্জিত এ দল গোলাকার হয়ে কিছুক্ষণ নাচ পরিবেশন করে। তারপর ঢোল ও বাঁশি বাজাতে বাজাতে পাহাড়ি পথ ধরে নাচের ভঙ্গিতে পাহাড়ের অন্য কোনো গৃহস্থের বাড়িতে চলে যায়। দলের সদস্যদের পরনে ধুতি ও একই রঙের জামা। মাথা, কোমর ও হাতে ওড়নার মতো একটি লম্বা কাপড়। এক বাড়িতে নাচের পর অন্য বাড়িতে যাচ্ছে তারা। নাচ শেষে গৃহস্থ সামর্থ্য অনুযায়ী পানীয়, চাল, টাকা আর ফলমূল দিচ্ছিলেন তাদের।

পানছড়ি খেলাধুলাপাড়ার নাচের দলের আচাই (ওঝা) সত্যধন ত্রিপুরা (৬৯)। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গড়াইয়া নাচের দলের সদস্যরা গৃহস্থের উঠানে চার-পাঁচটি মুদ্রা প্রদর্শনের পর বাড়ির কর্তা ও নারীদের নানা বায়না শুরু হয়। বেশির ভাগই নাচের মুদ্রায় যুবক-যুবতীর প্রেম–বিরহ, স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া, জুম কাটা ও কাপড় ধোয়া ইত্যাদি দেখতে চান।

যেকোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আগে গড়াইয়া নাচের প্রচলন আছে ত্রিপুরা সমাজে। আগে জুমের ধান রোপণের আগে সাত দিন ও সাত রাত গড়াইয়া নাচের আয়োজন হতো। একসময় যুদ্ধযাত্রার আগে এ নাচ হতো। এখন শুধু নিয়ম রক্ষায় এ নাচ পরিবেশন করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন