ঘরের আড়ার সঙ্গে ৫ ঘণ্টা ঝুলে ছিল গৃহবধূর লাশ

ঝুলন্ত লাশ
প্রতীকী ছবি

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় শোবার ঘরের আড়ার সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টা ঝুলে ছিল এক গৃহবধূর লাশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের উত্তর কান্তনগর নয়াপাড়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

লাশটি ওয়াসা খাতুন (২২) নামের গৃহবধূর। তিনি নয়াপাড়া গ্রামের উজ্জ্বল হোসেনের স্ত্রী ও একই উপজেলার ইশরঘাট গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে উজ্জ্বল ও ওয়াসার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ চলছিল। এরই মধ্যে ১৪ মাস আগে ওয়াসা ছেলেসন্তান জন্ম দেন। সংসারে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০০ টাকা ধার নেন উজ্জ্বল। এতে ওয়াসা স্বামীর ওপর ক্ষুব্ধ হন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে শোবার ঘরের আড়ার সঙ্গে ওয়াসার লাশ দেখতে পান পরিবার ও আশপাশের লোকজন। পরে উজ্জ্বল ও তাঁর পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। এলাকাবাসীর কাছে খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে ওয়াসার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

নিহত ওয়াসার বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমার কারও প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী পুলিশই ব্যবস্থা নেবে।’

ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন বলেন, নিহত গৃহবধূর পরিবারের অনুমতি নিয়ে ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য থানায় অপমৃত্যুর মামলা নিয়ে লাশটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।