বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নরসিংদীর মনোহরদী পৌর এলাকার শল্লাবাদের একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের চার সদস্যকে অচেতন করে চুরির এ ঘটনা ঘটে। এর ফলে এসএসসির প্রথম দিনের পরীক্ষায় কোনোরকমে বসা হলেও পরীক্ষা শেষ করতে পারেনি সাদিয়া। পরীক্ষার পুরো সময়টাই ঘোরের মধ্যে কেটেছে তার। সোমবার বিকেলে প্রথম আলোকে মেয়ের পরীক্ষা দিতে না পারার আক্ষেপের কথা জানান বাবা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) মনোহরদী শাখার ব্যবস্থাপক। চাকরিসূত্রে মনোহরদীতে বসবাস তাঁর। বড় মেয়ে সাদিয়া সুলতানা মিম নরসিংদীর মনোহরদীর চন্দনবাড়ি এসএ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

মালামাল যা কিছু চুরি হয়েছে, তা হয়তো আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় আবার পূরণ করা সম্ভব হবে। কিন্তু আমার মেয়েটা যে পরীক্ষা দিতে পারল না, এ কষ্ট কোথায় রাখি?
মোজাম্মেল হক, সাদিয়ার বাবা

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে আমি বাড়ি ফিরে দেখি, দুই মেয়ে তাদের ঘরে পড়াশোনা করছে। রাত ১১টার দিকে ছোট মেয়ে মাহিয়া আমার কাছে এসে খুব খারাপ লাগছে বলেই অচেতন হয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর একই রকমভাবে অচেতন হয়ে যায় বড় মেয়ে সাদিয়া। মেয়েদের খোঁজ নিতে ওই ঘরে আমার স্ত্রী নাজমা খাতুন গেলে সেও অচেতন হয়ে পড়ে। আমি মাহিয়াকে আমার কক্ষে শুইয়ে দিয়ে ওই কক্ষে গিয়ে তাদের দুজনকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখি। পরে আমারও অসুস্থ লাগছিল। এরপর আমিও অচেতন হয়ে পড়ি। পরদিন সকাল সাতটার দিকে আমার আগে জ্ঞান ফিরলে আমি তাদের চোখে-মুখে পানি ছিটিয়ে জ্ঞান ফেরাই। কিন্তু তারা ঘোরের মধ্যে ছিল। পরে সাদিয়াকে কোনোরকমে পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে গেলেও সে তাতে মনোনিবেশ করতে পারেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মালামাল যা কিছু চুরি হয়েছে, তা হয়তো আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় আবার পূরণ করা সম্ভব হবে। কিন্তু আমার মেয়েটা যে পরীক্ষা দিতে পারল না, এ কষ্ট কোথায় রাখি? এ ঘটনায় রোববার রাতেই আমি মনোহরদী থানায় গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। পুলিশ বলেছে, এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করব নাকি মামলা করব, সিদ্ধান্ত নিয়ে থানায় যেতে। আমি সোমবার আবার থানায় অভিযোগ নিয়ে যাব।’

সাদিয়া বলে, ‘আমি ভালোভাবেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের অচেতন করে চুরির ঘটনার পর পরীক্ষার হলে গিয়ে একরকম ঘোরের মধ্যে ছিলাম। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের দিকে আমি তাকাতে পারছিলাম না। ওই সময় উত্তরপত্রে লেখার শক্তিও আমার ছিল না। একটা বছর শিক্ষাজীবন থেকে বাদ পড়ে গেল। এই কষ্ট কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।’

এ বিষয়ে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিচুর রহমান বলেন, ‘পরিবারের সব সদস্যের অচেতন হওয়ার বিষয়টি খুবই রহস্যজনক লাগছে। আমরা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় আসতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন