default-image

করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকারি নির্দেশনায় বন্ধ রয়েছে সিলেট নগরের রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। ফলে অন্য বছরের মতো এসব দোকানে ইফতার সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে না। এ অবস্থায় ঘরের আয়োজনই সর্বস্ব।

ঘরে তৈরি ইফতার সামগ্রীর ব্যাপারে কয়েকজন গৃহিণী জানালেন, এবার ইফতারি প্রস্তুত করার অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। ঘরবন্দী থাকার কারণে স্বামী-সন্তানেরাও তাঁদের কাজে সহায়তা করছেন। নগরের উপশহর এলাকার বাসিন্দা ইয়াসমীন বেগম। গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কথা হয় চল্লিশোর্ধ্ব ওই গৃহিণীর সঙ্গে। তাঁর স্বামী আখতারুল ইসলাম বেসরকারি চাকরিজীবী। এ দম্পতির কলেজপড়ুয়া এক ছেলে ও স্কুলপড়ুয়া এক মেয়ে রয়েছে।

ইয়াসমীন জানান, বৃহস্পতিবার তিনি খিচুড়ি, আখনি, জিলাপি, পেঁয়াজি, ছোলা, শাকবড়াসহ ১০ থেকে ১২ পদের ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত করেছেন। আগে এসব সামগ্রীর অধিকাংশই বাইরের রেস্তোরাঁ থেকে কেনা হতো। এ ছাড়া ইফতারি তৈরিতে তাঁকে স্বামী-সন্তানেরাও সহযোগিতা করছেন।

আখতারুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা আমার জন্যও এক নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। অন্য বছর অফিস শেষে নানা পদের ইফতার সামগ্রী কিনে বাসায় ফিরতাম। ইয়াসমীনও বেশ কিছু পদ বাসায় বানাতেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বাইরে থেকে কোনো খাবারই কেনা হচ্ছে না। কেবল খেজুর ছাড়া শতভাগ খাবার বাসায় তৈরি করা হচ্ছে। দুই সন্তান ও আমি ইফতার সামগ্রী প্রস্তুতে সহায়তা করছি। এ ধরনের অভিজ্ঞতা এর আগে কখনো হয়নি। করোনা পরিস্থিতি যেন পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় করে দিয়েছে।’

হাওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী কুমকুম হাজেরা। নগরের জিন্দাবাজার এলাকায় তিনি আরও দুজনের সঙ্গে শুরু করেছিলেন ‘আর কে আর জায়রো’ নামের একটি খাবারের প্রতিষ্ঠান। করোনা পরিস্থিতিতে গত ২৫ মার্চ থেকে দোকানটি বন্ধ। ঘরবন্দী অবস্থায় বাসাতেই সময় কাটাচ্ছেন। তিনি জানালেন, গতকাল ইফতারির জন্য বাসাতেই পেঁয়াজি, বেগুনি, ছোলা, লেবুর শরবত, মেথি-ছানা-ঘিয়ের পোলাও ও হালিম তৈরি করেছেন। গতকাল তৈরি না করলেও প্রায়ই তিনি পাতলা খিচুড়ি প্রস্তুত করেন।

কয়েকজন গৃহিণীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসায় জিলাপি তৈরিতে তাঁদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তবে এর বাইরে অন্যান্য ইফতার সামগ্রী প্রস্তুতে খুব একটা বেগ পেতে হচ্ছে না। তাঁরা পেঁয়াজি, আলুর চপ, ডিমের চপ, বেগুনি, শাকের পাকোড়া, সবজির পাকোড়া, কাঁচকলার চপ, চিংড়ির বড়া, পাতলা খিচুড়ি, আখনি, পোলাও, চিকেন রোল, চিকেন টিক্কা, রেশমি কাবাব, হালিম, পুডিং, শিক কাবাব, বিফ বলসহ নানা রকম মুখরোচক খাবার তৈরি করছেন।

স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ বলেন, কয়েক বছর ধরে রেস্তোরাঁ থেকে ইফতার সামগ্রী কেনার প্রবণতা বেড়েছে। এ অবস্থায় ইফতারের বাজারও খুব জমজমাট থাকত। এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শতভাগ ইফতার সামগ্রী ঘরেই প্রস্তুত হচ্ছে। অন্যান্য বছর ইফতারিতে একেক দিন আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত করে নিয়ে খাওয়াতেন অনেকে। এবার এ রেওয়াজেও ব্যত্যয় ঘটেছে।

‘সিলেটের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি-প্রকৃতি রক্ষা আন্দোলন’-এর সমন্বয়কারী আবদুল করিম বলেন, সিলেটের ইফতার সংস্কৃতিতে পাতলা খিচুড়ি আর আখনি থাকবে, এটা যেন চিরায়ত রেওয়াজ আর ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এবার সবাই বাসায় তৈরি করছেন। এতে যেমন স্বাস্থ্যকর ইফতার সামগ্রী তৈরি হচ্ছে, তেমনি অনেক সাশ্রয়ও হচ্ছে। দুই দিক দিয়ে রোজাদারেরা উপকৃত।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0