পশ্চিম দিকে গিয়ে চোখে পড়ে চরের বানভাসি পরিবারগুলো ছোট ছোট নৌকায় আশ্রয় নিয়ে আছে। বাচ্চা কোলে নিয়ে নৌকায় বসে করিমন বেগম বলেন, ‘খুব দুর্গতিতে পড়ছি গো ভাই। ছোট ডিঙি নৌকায় থাকি, বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ আর নদীর পানির আওয়াজে ঘুম আহে না। ছাওয়াগুইলা ভয়ে ফাল পাইরা ওঠে। কেউ কিছু দিলে নৌকায় রান্ধা বাইরা খাই। না পাইলে অমনে থাকি। পানিতে আখড়িও ভিজা গেছে।’

স্থানীয় লোকজন বলেন, চরে ৮৩টি পরিবার বসবাস করে। কিছু পরিবার গরুসহ আশপাশের কোনো উঁচু জায়গায় উঠেছেন। বাকিরা বসতঘরের আশপাশে নৌকায় থাকেন। একটি নৌকার ওপর রান্না করছিলেন রওশন আরা বেগম। নৌকাটি পলিথিন দিয়ে মোড়ানো। ভেতরে ছোট বাচ্চা শুয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘ঘরের ভেতরে চাল আছিল ভিজা গেছে। অনেক কষ্টে কিছু চাল বাহির কইরা রোদে শুকাইলাম। হেয় কিছুক্ষণ আহে একটা মাছ পাইছে সেইডা রানতাইছি।’

পাশেই তাঁর স্বামী মো. জালাল পানির মধ্যে হেলে পড়া ঘরের চাল ঠিক করছিলেন। তিনি পেশায় জেলে। জালাল বলেন, খুব কষ্টে আছেন। চরের সবার অনেক ক্ষতি হয়েছে। ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে নৌকায় আছেন। গত দুই মাস থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। বন্যা ও বৃষ্টিতে খড় নষ্ট হয়ে গেছে। ঘাস পানির নিচে থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে। গরু-ছাগলকে কী খাওয়াবেন?

নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের প্যাপারের চর ও বারবিশের চরে গিয়ে দেখা যায়, এসব চরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বারবীশের চাঁদ মিয়া বলেন, ‘আমরা কাম কইরা খাই। ১০-১২ দিন থাইকা পানি কাম নাই। চলি কেমনে। আমরা যে কষ্টে আছি, কেউ খবর নেয় নাই।’

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেদুল হাসান বলেন, পোড়ার চরের নদীভাঙা পরিবারগুলোকে পাঁচ একর খাসজমি উদ্ধার করে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এলাকাটি নিচু। হঠাৎ বন্যা শুরু হওয়ায় বসতভিটা উঁচু করতে পারেনি। তবে প্রথমেই তাদের ত্রাণ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, বন্যায় প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত ৫৩৮ মেট্রিক টন চাল, ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন