বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, নৌপথে চারটি ফেরি চালু আছে। তবে সব ধরনের যানবাহন পারাপারে সক্ষম তিনটি ফেরি। সেই তিনটি ফেরির মধ্যে শুধু শাহ মখদুম নামের ফেরিটি বড়; কপোতী ও ক্যামেলিয়া নামের ফেরি দুটি ছোট ও ধীরগতির। এ ছাড়া ফরিদপুর নামে আরেকটি ফেরি চালু থাকলেও সেটি দিয়ে শুধু ছোট গাড়ি পারাপার করা হয়।

ফেরিঘাট–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও যানবাহনের চালকেরা জানান, ফেরিসংকটের চেয়েও বড় সমস্যা একটি পন্টুন ও ঘাটের মাধ্যমে ফেরিঘাট পরিচালনা। যানবাহন ফেরিতে ওঠা-নামা করতে গিয়ে বিকল হলে বা পন্টুনটির কোনো সমস্যা হলে ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় একটি ফেরি পন্টুনে গিয়ে ভেড়ার পর আরেকটি ফেরি এলে সেটিকে দূরে নোঙর করতে হচ্ছে। এতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়।

দুপুরে দেখা যায়, ফেরি থেকে পণ্যবোঝাই একটি ট্রাক নামতে গিয়ে পন্টুনে বিকল হয়ে পড়েছে। ঘাটসংশ্লিষ্টরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে ট্রাকটির একটি যন্ত্রাংশ ভেঙে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। ওই যন্ত্রাংশ এনে ট্রাকটি ঠিক করতে অন্তত তিন ঘণ্টা দরকার। এ তিন ঘণ্টায় ঘাটে কোনো ফেরি আর ভিড়তে পারবে না। এর আগে ২৯ অক্টোবর পন্টুন ভেঙে টানা দুদিন ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।

দেখা গেছে, ফেরিঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় দুই শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক। কাজীরহাট থেকে আরিচায় যেতে এসব ট্রাক দুদিন ধরে ঘাটে আটকা।

ট্রাকচালক লিয়াকত আলী জানান, বুধবার কুষ্টিয়া থেকে গম নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হন। এরপর থেকে ঘাটে আটকে আছেন। গতকাল ফেরিতে ওঠার আগমুহূর্তে পন্টুনে ট্রাক বিকল হয়ে পড়ায় অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই ঘাটে আইস্যা ফাঁইস্যা গেছি।’

কাজীরহাট ট্রাকচালক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. রইজউদ্দিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঢাকা যাওয়া-আসার পথে বেশ যানজট থাকায় কাজীরহাট ফেরিঘাটে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। কিন্তু এই ঘাট হয়ে চলাচলে এখন দুর্ভোগ অনেক বেশি। অথচ পন্টুন ও ফেরি বাড়িয়ে বিআইডব্লিউটিসি সব দুর্ভোগ দূর করতে পারে। আসলে বিআইডব্লিউটিসির চরম অবহেলার শিকার হয়ে পড়েছে এ ফেরিঘাট।’

ফেরিঘাটের টার্মিনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (টিএ) আবুল হাসনাইন বলেন, ‘আগের ২৪ ঘণ্টায় ফেরির ১৫টি ট্রিপ হয়েছে। অথচ ঘাটে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক রাখতে ২২ থেকে ২৪টি ট্রিপের দরকার। ঘাটে যে সংখ্যক ট্রাক আটকে আছে, তাতে নতুন করে না এলে শুধু এগুলো পার করতেই দেড় থেকে দুদিন লেগে যাবে।’

বিআইডব্লিউটিসির কাজীরহাট ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঘাটটি স্বাভাবিক রাখতে যেকোনোভাবেই হোক ফেরির সংখ্যা বাড়াতে হবে। তবে সবচেয়ে বেশি দরকার পন্টুন ও ঘাট বাড়ানো। এ সমস্যাগুলো সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত জানাচ্ছি।’

ট্রাক টার্মিনাল বেদখল
কাজীরহাট ফেরিঘাটের ট্রাক টার্মিনালটি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে আছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা সেখানে অবৈধ দোকানপাট গড়ে তোলায় কোনো ট্রাকই ভিড়তে পারছে না। অথচ সেখানে দুই শতাধিক ট্রাক রাখার ব্যবস্থা আছে। টার্মিনালে ঢুকতে না পারায় ফেরিতে ওঠার আগে ট্রাকগুলো সড়কেই থাকছে। এতে ট্রাকচালক ও তাঁদের সহকারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

কাজীরহাট ট্রাকচালক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. রইজউদ্দিন বলেন, কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে টার্মিনালটি বেদখল হয়ে গেছে।

সওজের পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শামসুজ্জোহা বলেন, ‘ট্রাক টার্মিনাল দখলমুক্ত হলে সড়ক যানজটমুক্ত হবে বলে আমরাও মনে করি। এ কারণে এটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন