পুলিশ জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেল মারধরের ঘটনায় নিহত নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন উপজেলার বাইলজুরী চকপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী আছমা বেগম।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বাইলজুরী এলাকায় নুরজাহানের ছেলে সাদ্দাম খান ট্রাক্টর চালিয়ে যাচ্ছিলেন। নজরুল ইসলামের ভুট্টাখেতের পাশ দিয়ে ট্রাক্টরটি যাওয়ার সময় কয়েকটি গাছ ভেঙে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাদ্দামকে মারধর শুরু করেন নজরুল ইসলাম। এ সময় সাদ্দামের চিৎকারে তাঁর বাবা আইয়ুব খান ও মা নুরজাহান এগিয়ে আসেন। এরপর নজরুল মুঠোফোনে কল দিয়ে তাঁর এলাকার লোকজন ডেকে আনেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় নজরুলের লোকজন লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নুরজাহান ও তাঁর স্বামী আইয়ুবকে গুরুতর আহত করেন।

পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার সকাল নয়টার দিকে নুরজাহান মারা যান। এর আগে সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য আইয়ুব খানকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় আজ বিকেলে নিহত বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের ছেলে সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এর আগে দুপুরে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য বৃদ্ধার লাশ জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন