default-image

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রায় একমাস ঘরছাড়া ছিলেন তাঁরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে ঘুমিয়ে ছিলেন। শুক্রবার ভোরেই হামলা চালিয়ে বসে প্রতিপক্ষ।

নরসিংদীর মাধবদীর চরদীঘলদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রতিপক্ষের হামলায় তিনজন টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। আজ ভোর পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

টেঁটাবিদ্ধ দুজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা হলেন হযরত আলীর ছেলে মো. ইউনুস (২১) ও নাসির মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (৩০)। অপর টেঁটাবিদ্ধ ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর নাম জানা যায়নি।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রোজী সরকার বলেন, একজনকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁর হাত ও পা থেকে টেঁটা অপসারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুজন আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চরদীঘলদী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দুটি গ্রুপের একটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী ও অন্যটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মনসুর। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ভোর পাঁচটার দিকে শওকত আলীর সমর্থকেরা চেয়ারম্যান আবু মনসুরের ঘুমন্ত সমর্থকদের বাড়িঘরে ঢুকে হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীদের হাতে ছিল টেঁটা, দা ও বল্লমসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র। ওই হামলায় তিনজন টেঁটাবিদ্ধসহ মোট মোট পাঁচজন আহত হন।

বিজ্ঞাপন

নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন টেঁটাবিদ্ধ মো. ইউনুস বলেন, শওকত আলীর সমর্থকেরা ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁদের ওপর হামলা চালান। আলী হোসেন, আলী আজগর, জাহাঙ্গীর, আজিজ, নূর মোহাম্মদ ও মুক্তারসহ শতাধিক লোক মিলে এই হামলা চালিয়েছেন।

আর চরদীঘলদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মনসুর বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শওকত গ্রুপের লোকজনের সঙ্গে তাঁর লোকজনের জমিসংক্রান্ত একটি বিরোধ হয়েছিল। ওই সংঘর্ষে তাঁর লোকজন আহত হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁরা যাঁর যাঁর বাড়িতে ফিরলে আজ ভোরে শওকত আলীর লোকজন পুনরায় এই হামলা চালান। এতে তাঁর পাঁচ সমর্থক টেঁটাবিদ্ধ ও আহত হয়েছেন।

default-image

জানতে চাইলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বলেন, ‘আমি বা আমার সমর্থকেরা কোনোভাবেই এই হামলার সঙ্গে জড়িত নই। এলাকায় মাদক ব্যবসা করে এমন তৃতীয় একটি পক্ষ এই হামলা চালিয়ে এর দায় আমাদের ওপর চাপাতে চাচ্ছে।’

খবর পেয়ে গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মাধবদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহম্মেদ বলেন, আগের বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন