বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাভারের নিউমার্কেট এলাকায় স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন লাইলী বেগম। গত বুধবার দুপুরে সাভারের ইমান্দিপুরের গাবতলা মোড়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, রানা প্লাজা ধসে পায়ে আঘাত পাওয়ায় পা ঠিক করতে অস্ত্রোপচার করে রড দেওয়া হয়েছে। বুকের ব্যথাটাও প্রায়ই কষ্ট দেয়।

লাইলী বেগম বলতে থাকেন, সুইং অপারেটর হিসেবে রানা প্লাজার ষষ্ঠ তলার ইথার টেক্স কারখানায় কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সুইং মেশিনের পাশেই ছিলেন তিনি। হঠাৎ প্রোডাকশন ম্যানেজার ধাক্কা দিয়ে তাঁকে কোয়ালিটি টেবিলের নিচে ফেলে দেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি অবাক হলেও প্রকৃত কারণ বুঝতে বেশি সময় লাগেনি তাঁর। চারদিকে অন্য শ্রমিকদের দিগ্‌বিদিক ছোটাছুটি করতে দেখেন তিনি। এরই মধ্যে খেয়াল করেন টেবিলের নিচে আরও ছয়জন আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন ছেলে, চারজন মেয়ে। ভবনের দেয়াল ভেঙে পড়ছে। টেবিলের নিচ থেকে ভয়াবহ এ দৃশ্য দেখেছেন লাইলী বেগম। মৃত্যুভয়ে চিৎকার করতে গিয়েও কথা বের হচ্ছিল না তাঁর। তিনি বলেন, ‘আমি চিল্লাচিল্লি শুনি, নিজেও বাঁচার জন্য চিৎকার করতে চাইছি, কিন্তু আমার মুখ দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হয় না। আমাদের সবার নিচে চাপা পড়ে ছিল এক ছেলে। শুধু একবার তাঁকে বলতে শুনছি, “চিল্লাইও না লাইলী আপা। ব্যথা লাগে। আল্লাহর নাম নেও।”’

লাইলী বেগম জানান, এর কিছুক্ষণ পরই পুরো ভবন ধসে পড়ে। চাপা পড়েন তাঁরাও। ইটসুরকির ধুলায় আচ্ছন্ন লাইলী বেগম দেখতে পান চারদিক থেকে পানি আসছে অল্প অল্প। ধুলায় মাখা সে পানি খাবারযোগ্য নয়। ক্ষুধা আর তৃষ্ণায় একসময় আর নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে জ্ঞান হারান তিনি। পরের দিন রাতে নিজেকে তিনি দেখতে পান স্থানীয় একটি হাসপাতালে। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে দীর্ঘ ৯ বছরেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। আলাপচারিতার একপর্যায়ে তিনি অসুস্থবোধ করতে থাকেন। পাশের একটি ফার্মেসি থেকে লোক এনে রক্তচাপ মাপিয়ে দেখা যায়, রক্তচাপ বেড়েছে লাইলী বেগমের।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন