আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের রুয়েরবিল এলাকার বৃদ্ধ রহমত শেখ বলেন, আগের দুই ঘূর্ণিঝড়ে তাঁদের পরিবারের সব শেষ হয়ে গেছে। এবার যদি তাঁদের এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে, তাহলে তাঁদের বাপ-দাদার ঠিকানা আর থাকবে না। আম্পানের পর তাঁর দুই ভাই এলাকা থেকে চলে গেছেন। নদীতে মাছ ধরে কোনোরকমে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এবার কিছু হলে আর রক্ষা নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও ২০২১ সালের ২৫ মে ইয়াস সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জ উপজেলায় আঘাত হানে। এতে বেড়িবাঁধ ভেঙে দেড় লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। মাছের ঘের ভেসে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফসলের মাঠ। এখনো অনেকেই তাঁদের বাস্তুভিটায় ফিরতে পারেননি। এমন অবস্থায় আবার যদি ঘূর্ণিঝড় অশনি আঘাত হানে, তবে তাঁদের ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।

বছর বছর ঘূর্ণিঝড়ে গ্রামের অনেকে শহরে চলে গেছেন বলে জানালেন শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের পারশেমারি গ্রামের অঞ্জনা রানী মণ্ডল। তিনি বলেন, শ্বশুরবাড়ির ভিটায় দাঁত কামড়ে পড়ে আছেন। এবার ঘূর্ণিঝড় হলে তাঁদের চলে যাওয়া ছাড়া আর উপায় থাকবে না।

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের বাসিন্দা দেবদাস মণ্ডল বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পর খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ ভেঙে তাঁরা গৃহহীন হয়ে পড়েন। এবার যদি আঘাত আসে, টিকে থাকা দায় হয়ে পড়বে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগ-১–এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দীপঙ্কর কুমার দাস বলেন, তাঁদের বিভাগের সীমানায় নয়টি স্থানের দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। এসব স্থানে সংস্কারের সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

একই বোর্ডের বিভাগ-২–এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামিম হুসাইন মাহমুদ জানিয়েছেন, তাঁদের বিভাগের আওতায় ২১টি স্থানে প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিটি স্থানে ঠিকাদার লাগানো হয়েছে। আশা করছেন সমস্যা হবে না।

পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সোমবার জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় অশনি মোকাবিলায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখতে ২৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শ্যামনগরে ১৮১টি ও আশাশুনিতে ১০৬টি আশ্রয়কেন্দ্র আছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনা খাবার মজুত রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে পাঁচ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ পর্যাপ্ত সুপেয় পানি। শ্যামনগর ও আশাশুনিতে ২ হাজার ৯৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রস্তুত আছে ৮৬টি চিকিৎসা দল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন