বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রাথমিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিপৎসংকেত বাড়লে জেলা প্রশাসকের দুর্যোগবিষয়ক সভা করে পরবর্তী প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আজ সকাল থেকেই বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল সারা দিন ভ্যাপসা গরম থাকলেও আজ সকাল থেকে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হচ্ছে। এতে কৃষকেরা রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ফসলের মাঠগুলোতে মুগ ডাল, আলু, চীনাবাদাম ও বোরো ধান রয়েছে। এর মধ্যে মাঠে থাকা ৮০ ভাগ ধান কাটার উপযোগী হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কার্যালয় জানিয়েছে, বরগুনা জেলায় ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষের পাশাপাশি কয়েক লাখ গবাদিপশুও রাখা যাবে।

বরগুনা সদর উপজেলা খাজুরতলা গ্রামের কৃষক মো. আলী এবার ২০ শতক জমিতে চীনাবাদাম আবাদ করেছেন। তবে সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তাঁর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আসবে বলে শুনেছি। ২০ শতক জমিতে বাদাম আছে। এই বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে যাবে মনে হচ্ছে।’

জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরগুনা কার্যালয়ে উপপরিচালক আবু সৈয়দ মো. জোবায়দুর আলম প্রথম আলোকে বলেন, যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে বোরো ধান বা রবি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা কম। তবে বৃষ্টি বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।

default-image

বরগুনা সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এই উপজেলার দুই হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ ফসল কাটার উপযোগী হয়েছে। বৃষ্টিপাত যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ফসলের ক্ষতি হতে পারে। তাই কৃষকদের দ্রুত বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কার্যালয় জানিয়েছে, বরগুনা জেলায় ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষের পাশাপাশি কয়েক লাখ গবাদিপশুও রাখা যাবে।

জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় অশনি মোকাবিলায় আমরা প্রাথমিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত বাড়লে জেলা দুর্যোগ প্রস্তুতি সভা করে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন