ঘোড়াঘাটের ইউএনওর ওপর হামলার প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তাঁর বাবাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন মুক্তিযোদ্ধারা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় কুষ্টিয়া শহরের থানামোড় এলাকায়
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তাঁর বাবাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন মুক্তিযোদ্ধারা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় কুষ্টিয়া শহরের থানামোড় এলাকায় প্রথম আলো
বিজ্ঞাপন

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং এই হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কুষ্টিয়ায় মানববন্ধন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার শহরের থানা মোড়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা ও উপজেলা কমান্ডের ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সকাল ১০টায় আয়োজিত ওই মানববন্ধনে জেলা ও উপজেলার শতাধিক বয়োজ্যেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন। প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী ওই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম। বক্তব্য দেন সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মশাররফ হোসেনসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধারা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইউএনওর ওপর হামলা যে ঘটনা ঘটেছে, তা সুপরিকল্পিত। এটা নিছক কোনো চুরির ঘটনা হতে পারে না। এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে প্রভাবশালী যে–ই হোক, সেই অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, তা না হলে মুক্তিযোদ্ধারা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন।
মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা তরুণ ও যুবক বয়সে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। এই বৃদ্ধ বয়সে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য রোদে দাঁড়িয়ে বিচার চাইতে হচ্ছে। এই জন্য দেশ স্বাধীন করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছিল, তারাই ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে হত্যাচেষ্টা চালিয়েছিল। তাই এ বিষয়ে গভীর তদন্ত করা প্রয়োজন। সরকারের কাছে দাবি, এটা যেন সাধারণ চুরি মামলা বলে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা না হয়। প্রকৃত ঘটনা যেন আড়াল করা না হয়। প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হোক।
রফিকুল আলম, ডেপুটি কমান্ডার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, কুষ্টিয়া

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম বলেন, যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছিল, তারাই ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে হত্যাচেষ্টা চালিয়েছিল। তাই এ বিষয়ে গভীর তদন্ত করা প্রয়োজন। সরকারের কাছে দাবি, এটা যেন সাধারণ চুরি মামলা বলে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা না হয়। প্রকৃত ঘটনা যেন আড়াল করা না হয়। প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হোক।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার মধ্যরাতে ইউএনওর সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর কেটে দুর্বৃত্তরা তাঁর শয়নকক্ষে ঢুকে পড়ে। এরপর তাঁরা ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তাঁর বাবা ওমর আলীর ওপর হামলা চালায়। দুর্বৃত্তদের হামলায় তাঁরা দুজন গুরুতর আহত হন। পরদিন খবর পেয়ে পুলিশ ইউএনও ও তাঁর বাবাকে উদ্ধার করে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে ওয়াহিদাকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে ঢাকায় নেওয়া হয়। তিনি এখন ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন