default-image

সাইনবোর্ডে নিজেকে ‘চক্ষু বিশেষজ্ঞ’ উল্লেখ করে ১৩ বছর ধরে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন আশরাফুল ইসলাম। কারও মনে এত দিন সন্দেহ হয়নি যে তিনি চিকিৎসক নন। র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সেই আশরাফুল স্বীকার করলেন, এত দিন তিনি চক্ষু বিশেষজ্ঞের ভুয়া পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা দিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়রামপুর বাজারের কেয়া চশমা ঘর থেকে আশরাফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে তাঁকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে চশমা ঘরের মালিক আক্কাস আলীকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নাটোর র‍্যাব ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদ পারভেজ বলেন, চিকিৎসক না হয়েও নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে আশরাফুল ইসলাম ১৩ বছর ধরে দয়রামপুর বাজারে চক্ষু চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। তাঁর সাইনবোর্ডে গুরুদাসপুর চক্ষু হাসপাতালের ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ইনচার্জ’ লেখা আছে। ঘটনাটি জানার পর তাঁরা কেয়া চশমা ঘর থেকে হাতেনাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তিনি বাজারের শত শত মানুষের সামনে স্বীকার করেন, তিনি শুধু উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। কখনো কোনো মেডিকেল কলেজে পড়াশোনাই করেননি।

বিজ্ঞাপন
default-image

দণ্ডপ্রাপ্ত আশরাফুল ইসলামের দাবি, উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর চক্ষু চিকিৎসায় এক বছরের ডিপ্লোমা করেছিলেন তিনি। তবে এ–সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমান বলেন, মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ বিধান অনুসারে আশরাফুল ইসলাম চিকিৎসক নন। তিনি ভুয়া চিকিৎসক হয়ে মানুষকে প্রতারিত করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন