বান্দরবানগামী একটি বাসের সুপারভাইজার মো. আইয়ুব আলী তাঁর ১৮ বছরের চাকরির জীবনে এ রকম দৃশ্য আগে দেখেননি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত দুই বছর করোনা ছিল। লোকজনও বাড়ি যায়নি। কিন্তু আগের বছরগুলোতে ঈদের আগের দিন টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় থাকত। টিকিটের জন্য হাহাকার থাকত। কাউন্টারে ভিড় সামাল দেওয়া যেত না। কিন্তু এবার একেবারেই ভিন্ন চিত্র। কাউন্টারে ভিড় তো দূরের কথা, যাত্রীদের উল্টো ডাকতে হচ্ছে। এভাবে কখনো যাত্রী ডাকতে হয়নি।

আইয়ুব আলীর পাশে দাঁড়ানো ছিল আরেকটি বাসের চালকের সহকারী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, যাত্রী না থাকার কারণে বাসে আসন খালি থাকছে। অপেক্ষা করেও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। তাই খালি রেখে বাস ছেড়ে দিতে হচ্ছে।

পূবানী বাস কাউন্টারে কথা হয় মনির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, তিনি সাতকানিয়া গ্রামের বাড়ি যাবেন। মনে করছিলেন কাউন্টারে অনেক ভিড় হবে। টিকিট পেতে কষ্ট হবে। কিন্তু তেমন কিছু হয়নি। পছন্দের আসন পেয়েছেন।

default-image

বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের পূবানী বাসের কাউন্টার ব্যবস্থাপক পুলক দাশ বলেন, আজ তেমন ভিড় নেই। যাত্রীরা যাঁরা যাওয়ার, তাঁরা আগেই চলে গেছেন। এখন অল্প কিছু যাত্রী যাচ্ছেন। তাঁরা হয়তো ছুটি পাননি।

বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল প্রায় ফাঁকা থাকলেও যাত্রীর কিছুটা চাপ ছিল চান্দগাঁও থানার সামনের কাউন্টারগুলোতে। এখান থেকে কক্সবাজারের গাড়ি ছেড়ে যায়। সৌদিয়া বাসের বিক্রয় নির্বাহী মোহাম্মদ মানিক বলেন, আজ মোটামুটি যাত্রীর চাপ আছে। তবে গতকাল ও পরশু আরও বেশি চাপ ছিল।
এই কাউন্টারের সামনে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন নির্মাণশ্রমিক সিয়াম আহমেদ। কক্সবাজারের চকরিয়ার এই বাসিন্দা বলেন, গত রোববার কাজ থেকে ছুটি পেয়েছেন। রাত হয়ে যাওয়াতে আর বাড়ি যাননি। এবার অনেক স্বস্তিতে বাড়ি যাওয়া যাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম নগরের শাহ আমানত সেতু এলাকার বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়নি। এই এলাকা থেকে কক্সবাজার, বান্দরবান ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার বাস ছেড়ে যায়। যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কাউন্টার ও বাসের সামনে দাঁড়িয়ে সমানে হাঁকডাক দিয়ে যাচ্ছিলেন গাড়ির লোকজন। যাত্রী হাতছাড়া হলেই বাসের চালকের সহকারীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়ে যায়। যাত্রীরাও পড়েন বিব্রতকর অবস্থায়।

শাহ আমানত সেতুর সংযোগ সড়কের মোড়ে দায়িত্বরত ছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্য গিয়াস উদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সকাল থেকেই যাত্রীদের কোনো ভিড় নেই। অল্প কিছু যাত্রী আসছেন মাঝেমধ্যে। যাত্রীদের চাপ না থাকলেও বাসচালকেরা অহেতুক এলোপাতাড়ি গাড়ি দাঁড়িয়ে যানজট সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।

কক্সবাজারগামী মারছা পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আবির চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এবার লম্বা ছুটি পাওয়া গেছে। এ জন্য মানুষ গত বৃহস্পতিবার থেকে বাড়ি যাওয়া শুরু করেছে। ফলে ঈদের আগের দিন যে ভিড় থাকার কথা, সেটি আর নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন