বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানায় হাজারো মানুষের ভিড় হয়েছে। প্রথম দিন এসেছিল প্রায় ১২ হাজার। দ্বিতীয় দিন তা ছাড়িয়ে গেছে। বিকেল পর্যন্ত ১৬ হাজার মানুষ চিড়িয়াখানায় এসেছেন। করোনার কারণে গত দুই বছর ঈদের ছুটি উপভোগ করতে পারেনি মানুষ। তাই এবার সুযোগ পেয়ে সন্তানদের নিয়ে চলে এসেছেন। শিশু-কিশোরেরাও চিড়িয়াখানার বাঘ, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী দেখে আনন্দিত ও খুশি।

default-image

দুই ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বিকেলে চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন ব্যাংকার শাহরিয়ার আলম। তিনি জানান, অফিস ও পারিবারিক কাজে প্রায় সময় ব্যস্ত থাকতে হয়। খুব একটা ঘোরাঘুরি করা হয় না। এবার ঈদের ছুটি পেয়ে তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন। বাচ্চারাও খুব উপভোগ করেছে।

চিড়িয়াখানার ভেতরে যেমন উপচে পড়া ভিড় ছিল, তেমনি প্রবেশের অপেক্ষায় বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন শত শত মানুষ। ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে খাচ্ছিল চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষের লোকজনকে। তবে ঈদের চাপ সামাল দেওয়ার জন্য আগে থেকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়ায় তেমন কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানান চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার পাশেই রয়েছে কনকর্ডের ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক। পার্কে সকাল থেকে হাজারো মানুষ ঘুরতে আসে। সবচেয়ে বেশি ভিড় জমে সি ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্কে। নানা বয়সী শত শত মানুষ গানের সুরে সুরে জলকেলিতে মেতে ওঠে।
কনকর্ডের ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্কের উপব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, সকালে বৃষ্টির জন্য দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। তবে দুপুরের পর থেকে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিরা পার্কের হ্রদে ঘুরে বেড়ান। আর কিশোর ও তরুণদের আগ্রহ ছিল ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ডে। ওখানে জল উৎসবে মেতে ওঠার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনা মহামারির পর এবারের ঈদে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে তারা।

default-image

সকালে বৃষ্টির জন্য চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি শিশুপার্কে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল কিছুটা কম। তবে দুপুরের পর থেকে ভিড় বাড়তে শুরু করে। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি তরুণ-তরুণীরাও এই পার্কে ঘুরতে এসেছিলেন। চট্টগ্রাম নগরের আলকরণ এলাকা থেকে ঘুরতে এসেছিলেন আনোয়ার হোসেন। তাঁর সঙ্গে ছিল পাঁচ বছরের ছেলে। তিনি বলেন, অন্য সময়ও তিনি বাচ্চাকে নিয়ে এই পার্কে ঘুরতে আসেন। এখন তো ঈদ। ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ হয়েছে এখানে ঘুরতে এসে।

শিশু পার্কে ঘুরতে এসে খুব ভালো লাগছে বলে জানায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্র পারভেজ আলম। সে বলে, অনেক সুন্দর জায়গা। দারুণ দারুণ সব রাইড রয়েছে।

শিশুপার্কের মহাব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সকালে বৃষ্টি হওয়ায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা কাজ করছিল। কিন্তু দুপুরের পর তা কেটে গেছে। প্রচুর মানুষ ঘুরতে এসেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন