বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ স্টেশনের পরিদর্শক কুতুব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, হেলে পড়া ভবন বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই রাতের মধ্যে ভবনের সব বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ভবনের বিদ্যুৎ ও গ্যাস–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

ভবনমালিকদের দাবি, তাঁরা নকশা অনুমোদন নিয়েই ভবন নির্মাণ করেছেন। ধারকর্জ করে ভবন তৈরি করেছেন। এখন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজের জন্য তাঁদের ভবন হেলে পড়েছে। এভাবে ভবন হেলে পড়ায় তাঁরা দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন।

তবে ভবনগুলো নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়নি বলে দাবি করেছেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক।

তিনতলা ভবনটির মালিক সুশান্ত দাস বলেন, তাঁর অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। দুই বছর আগে ধারকর্জ করে ভবন করেছিলেন। সব অনুমোদন নিয়েই ভবন করা হয়। খালের কাজের কারণে এখন বড় বিপদে পড়েছেন। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাবেন, তা বুঝতে পারছেন না।

দোতলা ভবনটির মালিক মনোরঞ্জন দাসের স্ত্রী আরতি দাস বলেন, ‘খালের প্রতিরোধ দেয়ালের কাজ শুরুর পর থেকে আশপাশের ভবন হেলে পড়তে শুরু করে। সিডিএকে বারবার বলা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন এ অবস্থায় ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোথায় যাব? আমাদের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়।’

default-image

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক ও সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ভবন দুটির কিছু অংশ খালের মধ্যে ছিল। তা আগে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। আর ভবন দুটি সিডিএর নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়নি। নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করা হলে তা এভাবে হেলে পড়ার কথা নয়। প্রকল্পের কাজের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়। প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণের কারণে মাটিধসের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য খালের পাশে শিট পাইল দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান নগর–পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, নকশা অনুমোদন দেওয়ার সময় খালের ১৫ ফুট দূরে ভবন নির্মাণ করতে বলা হয়। যাঁরা এর ভেতরে ভবন নির্মাণ করেছেন, তাঁদের তা অপসরণ করতে সময় দেওয়া হয়। কিন্তু এ সময়ে অপসারণের বদলে তাঁরা তা বর্ধিত করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই খালের কাজ শুরু করতেই ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন