বিজ্ঞাপন

ঈদুল আজহায় এবার চট্টগ্রামে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে তিন লাখ। বুধবার কোরবানি শেষে বিভিন্ন স্থান থেকে চামড়া সংগ্রহ শুরু করেন মৌসুমি ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা। পরে তাঁরা তা আড়তদারদের কাছে বিক্রি করে দেন। আবার কোনো কোনো সাধারণ ব্যবসায়ী লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।

এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ চামড়া সংগ্রহ হয়েছে বলে জানান বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন। তিনি আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আড়তে এখন পর্যন্ত দেড় লাখ চামড়া এসেছে। এ ছাড়া নগর ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অনেকে চামড়া লবণজাত করে রেখেছেন। সব মিলিয়ে সোয়া দুই লাখ চামড়া হবে। তবে এর বাইরেও আরও কিছু চামড়া আশপাশের জেলা থেকে আসবে আশা করছি। তাতে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি হতে পারে।’

আজ সকালে নগরের আতুরার ডিপো এলাকায় দেখা যায়, চামড়ার আড়তদারেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। চামড়া পরিষ্কার করে লবণ দিচ্ছেন শ্রমিকেরা। গুদামে জায়গা না হওয়ায় অনেকে রাস্তার ওপর স্তূপ করে রেখেছেন চামড়া। এতে হাটহাজারী–মুরাদপুর সড়কে যান চলাচলে কিছুটা ব্যাঘাত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থান থেকে আজও কাঁচা চামড়া আসছে। লবণ দেওয়া চামড়াও আনা হচ্ছে উপজেলা এবং আশপাশের জেলা থেকে।

এবার সরকারিভাবে ঢাকার বাইরে চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা প্রতি বর্গফুট। তবে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তাঁদের ন্যায্য দাম দেননি আড়তদারেরা। অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী বেশি দামে চামড়া কিনে লোকসানে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ।

সাকিব নামের চৌমুহনীর এক মৌসুমি ব্যবসায়ী বলেন, ‘চামড়া কিনেছি ৩০০ টাকায়, কিন্তু বেচতে হয়েছে ২৮০ টাকায়।’

আড়তদারদের হিসাবে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা দাম না বুঝে বেশি দামে চামড়া সংগ্রহ করেছেন। চামড়া প্রক্রিয়া করতে ফুটপ্রতি ১২ টাকা খরচ রয়েছে। এর বাইরে পরিবহন খরচ রয়েছে। কিন্তু তাঁরা এসব হিসাব না করে চামড়া সংগ্রহ করেছেন। যার কারণে কেউ কেউ লোকসানে পড়েছেন।

আড়তদার সমিতির সভাপতি মুসলিম উদ্দিন বলেন, ‘বড় চামড়া ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়ও আমরা কিনেছি। ছোট চামড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় কেনা হয়। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা না বুঝে যদি চামড়া কেনে, তাহলে তো সমস্যায় পড়বেন।’ তিনি জানান, দু–তিন দিনের মধ্যে ট্যানারিতে চামড়া চলে যাবে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রামে এই সমিতির অধীনে ১১২ জন আড়তদার রয়েছেন। এর বাইরে আরও শ খানেক ব্যবসায়ী চামড়া গুদামজাত করে থাকেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন