বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এর আগে গত বছরের আগস্ট ও ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসেও জমি নির্বাচনের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছিল কারা অধিদপ্তর থেকে। চিঠিতে বলা হয়, কারাগারে জায়গার অভাবে উৎপাদন বিভাগের কার্যক্রম (বন্দীদের দিয়ে বাগান করা, পুকুরে মাছ চাষ ও আসবাব তৈরি) বন্ধ রয়েছে। স্বল্প পরিসরে অধিক বন্দী আটক রাখায় তাঁরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

কারা সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের আয়তন ১৪ একর। ১ হাজার ৮৫৩ বন্দী ধারণক্ষমতার এই কারাগারে গড়ে প্রতিদিন ৭ হাজার বন্দী থাকেন। চট্টগ্রাম কারাগারে থাকা সাধারণ ও দুর্ধর্ষ বন্দীদের আলাদা করে রাখার জন্য তদন্ত কমিটি সুপারিশ করেছে। কিন্তু স্থান সংকুলানের কারণে এখানে তা সম্ভব হচ্ছে না। চলতি বছরের ৬ মার্চ চট্টগ্রাম কারাগার থেকে হত্যা মামলার আসামি ফরহাদ হোসেন দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। পরে গ্রেপ্তার হন। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ধারণক্ষমতার বেশি বন্দী হওয়ায় সামাল দিতে না পারার বিষয়টি উঠে আসে।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয় জেলা ও মহানগর থানার মামলার বন্দীদের আলাদা করে রাখার।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. শফিকুল ইসলাম খান তাঁর কার্যালয়ে প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আদালতে কম সময়ে যাওয়া যায় এ রকম ৩০ থেকে ৫০ একর জায়গা খোঁজা হচ্ছে, যেখানে বন্দীরা ভালোভাবে থাকতে পারেন, যাতে পোশাক কারখানা, মৎস্য চাষসহ নানা প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা যায়।

জমি নির্বাচনে দেরি কেন হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, কিছুদিন আগে বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়কের পাশে কিছু খালি জায়গা দেখা হয়েছিল। কিন্তু আশপাশে পাহাড় থাকায় ওই জায়গা নির্বাচন করা হয়নি। পাহাড় থাকায় অনুমোদন পাওয়া যাবে না। চট্টগ্রাম শহরের পাশে কর্ণফুলী নদীর ওই পারে পটিয়ায় জায়গা দেখা হয়েছে। নগরে আরও কয়েকটি জায়গা দেখা হচ্ছে। শিগগিরই একটি জায়গা নির্বাচন করে কারা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে।

কারা সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম কারাগারে বর্তমানে ৬৬২ জন কয়েদি (সাজাপ্রাপ্ত) আসামি রয়েছেন। নতুন কারাগার নির্মিত হলে তাঁদের সেখানে রাখা যাবে। এ ছাড়া যাঁদের নিয়মিত হাজিরা নেই, তাঁদেরও রাখা যাবে।

কারা প্রশাসনের সাবেক উপমহাপরিদর্শক শামসুল হায়দার সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বন্দী থাকেন চট্টগ্রামে, সেখানে দ্রুত নতুন কারাগার নির্মাণ জরুরি। তা ছাড়া কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বন্দীদের মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলাসহ নানা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা, সাক্ষাৎ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন