বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই নারীও ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন বলে গত ২৮ জুলাই তাঁর মেয়ে জানিয়েছিলেন। মায়ের বিষয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর প্রথমে তাঁর দাঁতব্যথা হয়। এরপর মুখ ফুলে যাচ্ছিল। পরে চোখ ও চোখের আশপাশের জায়গায় লালচে কালো হয়ে যাচ্ছিল। তখন একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তাঁরা। ওই চিকিৎসক তাঁর মায়ের সিটি স্ক্যান করতে দেন।

তিনি বলেন, রিপোর্ট আসার পর ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বলে ধারণা করেন চিকিৎসকেরা। পরে ২৪ জুলাই মাকে চট্টগ্রামে মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মায়ের বায়োপসি করতে দেওয়া হয়। সেই রিপোর্টে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হয়েছে।

চমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সকাল সাড়ে নয়টায় ওই নারীর শরীরে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। বেলা দেড়টা পর্যন্ত চলে।

এদিকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত আরেক পুরুষ রোগীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ সোমবার মেডিকেল বোর্ড বসার কথা রয়েছে। গত শনিবার ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি কর্ণফুলী উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস নেই। তবে দাঁতের চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাঁর ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ ধরা পড়ে। পরে নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ এলে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।

গত এপ্রিল ও মে মাসে ভারতে করোনার ডেলটা ধরনের প্রকোপের মধ্যে বেশ কয়েকটি রাজ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ দেখা দেয়। কোভিড থেকে সেরে ওঠা বা সেরে ওঠার পর্যায়ে রয়েছেন, এমন রোগীদের এই ছত্রাকে সংক্রমণ ঘটে। রোগী বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে ভারতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকেও মহামারি ঘোষণা করা হয়।

সে সময় ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, সাধারণত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও এইডসের মতো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে এই ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটে থাকে। আগে থেকে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা এসব ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও দুর্বল হয়ে পড়েন। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে আসার সেই সুযোগে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ঘটে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন