default-image

গণপরিবহনে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের সরকারি নির্দেশনা চট্টগ্রাম নগরে কেউ মানছে, কেউ মানছে না।

আজ বুধবার নগরের বহদ্দারহাট মোড়, বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল, মুরাদপুর ও দুই নম্বর গেট এলাকা ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। গত সোমবার সরকার এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনার কথা জানায়। তার মধ্যে অন্যতম—গণপরিবহনে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহন। এই নির্দেশনার পর বাসমালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের জন্য এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ চট্টগ্রাম নগরের অন্তত চারটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারের নির্দেশনা সবাই মানছে না। অনেক গাড়িতে আগের মতোই যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। আবার বর্ধিত ভাড়াও নেওয়া হচ্ছে।

তবে সরকারের নির্দেশনা মেনে অনেক গাড়ি অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে চলছে। অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের কারণে গাড়ির সংকটে দুর্ভোগে পড়ছে যাত্রীরা। গাড়ি পেতে দীর্ঘ সময় যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

নগরের বহদ্দারহাট থেকে রাউজানের পাহাড়তলীর উদ্দেশে টেম্পো ছেড়ে যায়। এসব টেম্পোতে ১৪ জন করে যাত্রী নেওয়া হয়। আজ সকালে দেখা যায়, প্রতিটি টেম্পোতে সাতজন করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। আগে ৩৫ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হতো। আজ নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা করে।

বিজ্ঞাপন

একই মোড় দিয়ে নগরের মধ্যে চলাচলকারী টেম্পোগুলোর ক্ষেত্রে অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা গেল। মোড়ের এখলাছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের স্টেশনে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল অনেক যাত্রী। একেকটি টেম্পো আসতেই তারা হুমড়ে পড়ছিল। মুহূর্তের মধ্যেই গাড়ি যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে যাচ্ছিল। অনেকে গাড়ির পাদানির ওপর দাঁড়িয়েও গন্তব্যে যাচ্ছিল। অবশ্য এই মোড়ে কিছু কিছু গাড়ি অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিল।

জানতে চাইলে আবদুর রহিম নামের এক টেম্পোচালক বলেন, তিনি অর্ধেক যাত্রী নিতে চান। কিন্তু যাত্রীরা তাঁর কথা না শুনে গাড়িতে উঠে যাচ্ছে। যাত্রীরা কথা না শুনলে তিনি কী আর করতে পারেন।

আলতাফ হোসেন নামের এক চাকরিজীবী বলেন, অর্ধেক যাত্রী নেওয়ার কথা বলা হলেও সবাই তা মানছে না। আবার ভাড়াও বেশি নেওয়া হচ্ছে।

নগরের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে কক্সবাজার, বান্দরবান ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাস ছাড়ে। সকাল সাড়ে ১০টায় গিয়ে দেখা যায়, বাসগুলোতে অর্ধেক যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। বাসচালক ও সহকারীদের মুখে মাস্ক আছে।

মুরাদপুরে দেখা যায়, নগরের মধ্যে চলাচলকারী মিনিবাসগুলোতে অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখা হচ্ছে। তবে মোড় পার হওয়ার পর কোনো কোনো বাসে যাত্রী ওঠানো হচ্ছে। কোনো কোনো বাসের ভেতরে যাত্রীদের দাঁড়িয়েও থাকতে দেখা যায়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, গণপরিবহনে সরকারের নির্দেশনা মানা হচ্ছে কি না, তা তদারকির জন্য ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করবেন। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বছর করোনার প্রাদুর্ভাবের পর অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছিল সরকার। দুই মাস সেভাবে চলেছিল গণপরিবহন। তখনো বাসভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বাসের অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে চালানো হয়নি। ভাড়াও ৬০ শতাংশের বেশি, কিছু ক্ষেত্রে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হয়েছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন