গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে অস্থায়ী নগর ভবনে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নিয়ে জলাবদ্ধতা বিষয়ে বৈঠক করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরের পানি নিষ্কাশনের সব প্রতিবন্ধকতা অপসারণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যেসব ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার প্রকোপ বেশি দৃশ্যমান হয়েছে, সেসব স্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করা হবে।

বৈঠকে মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কমিটি কাজ শুরু করেছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলররা ওয়ার্ড পর্যায়ে পানি নিষ্কাশনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দুই দিনের মধ্যে কমিটিকে অবহিত করবে। সে ক্ষেত্রে কাউন্সিলররা নিজস্ব উদ্যোগে এক্সকাভেটর, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল নিয়ে নিজ নিজ ওয়ার্ডের নালা, নর্দমা, খালের, আবর্জনা দ্রুততার সঙ্গে পরিষ্কারে উদ্যোগ নেবেন।

অন্যদিকে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএকে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে যেখানে বাঁধ ও মাটি ভরাট করা হয়েছে, সেসব স্থানে বাঁধ অপসারণ এবং মাটি সরিয়ে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক করারও আহ্বান জানান মেয়র।

গত বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। কিছু কিছু এলাকায় টানা সাত দিন ধরে পানি জমে আছে। খোদ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর বহদ্দারহাটের বাড়িতে পানি জমে ছিল তিন দিন ধরে। ভারী বর্ষণে হওয়া জলাবদ্ধতার কারণে নগরের মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এভাবে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় বুধবার জরুরি সভায় বসেন নগরের সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা।

বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্পের কাজ চলছে। সিডিএ, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। একটি প্রকল্পও নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি সংস্থাগুলো। বারবার মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন