বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হাটে কথা হয় কয়েকজন ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে। তাঁরা জানান, ১৯৭১ সাল থেকে এখানে হাট বসে। প্রতি বুধবার বসে বাঁশের হাট। সকাল সাতটা থেকে শুরু হয়ে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত বাঁশ নদের পানিতে ফেলা, দড়ি দিয়ে স্তূপ করে বাঁধা এবং ট্রলারে বোঝাই করে ও ট্রলারে বেঁধে নদ দিয়ে ব্যবসায়ীদের গন্তব্যে নেওয়ার কাজ চলে। তাঁরা জানান, দড়ি দিয়ে বাঁধা বাঁশের স্তূপের ওপর বসে নদের পথে স্রোতে ভাসিয়ে বাঁশ হাটে আনা হয়। এ ছাড়া ইঞ্জিনচালিত ভটভটিতে করেও বাঁশ হাটে আনা হয়। আশপাশের গ্রামগুলোতে কোনো বাঁশ উৎপাদন হয় না। মূলত যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া, অভয়নগর উপজেলার অভয়নগর, ভাটপাড়া ও নাউলী এলাকা এবং নড়াইলের মিরাপাড়া, কালিয়া, মহাজন ও শীতলবাটি এলাকা থেকে বাঁশ এখানে আনা হয়।

হাটের আশপাশের গ্রামগুলোতে অনেক পানের বরজ রয়েছে। পানের বরজে অনেক বাঁশ লাগে। মূলত পানবরজের মালিকেরা এ হাটের বাঁশের ক্রেতা। এ ছাড়া দূর–দূরান্ত থেকেও অনেক ব্যবসায়ী এ হাটে বাঁশ কিনতে আসেন। বাঁশ কিনে তাঁরা নদের পথে খুলনা, মোংলা, চালনা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা ও কয়রায় নিয়ে যান। ঘরের খুঁটি, বেড়া ও নির্মাণকাজে বাঁশ ব্যবহার করা হয়।

মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত বাঁশের ভরা মৌসুম। এ সময় সবচেয়ে বেশি বাঁশ ব্যবহৃত হয়। চন্দ্রপুরের বাঁশের হাটে এ সময় গড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার বাঁশ ওঠে। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হাটে গড়ে তিন থেকে চার হাজার বাঁশ বেচাকেনা হয়। এ হাটে বাঁশ ছাড়া অন্য কোনো জিনিসপত্র বিক্রি হয় না।

২২ বছর ধরে এ হাটে বাঁশ কিনতে আসেন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সনাতনকাঠি গ্রামের ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন আকারের ৩০০ বাঁশ কিনেছেন। প্রতি ১০০ বাঁশের দাম পড়েছে ২০ থেকে ২১ হাজার টাকা। বিকেলে নদে ভাসমান তাঁর ট্রলারে বাঁশ তুলছিলেন তিনি। কাজের ফাঁকে তিনি বলেন, ‘রাতে ট্রলার ছাড়ব। চালনা ও বাজুয়া বাজারে পৌঁছাতে দুদিন লাগবে। প্রতিটি বাঁশে আমার ২০ থেকে ৪০ টাকা থাকে।’

হাট থেকে কাঁধে করে বাঁশ নদের পানিতে ফেলছিলেন খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার রাধামাধবপুর গ্রামের তালিব মল্লিক ও সম্রাট মল্লিক। তাঁরা বলেন, ‘প্রতি হাটবার আমরা বিভিন্ন মহাজনের ৪০০ থেকে ৫০০ বাঁশ নদের পথে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে দিঘলিয়া উপজেলার কামারগাতী এলাকায় পৌঁছে দিই। বাঁশগুলো নদের পানিতে ফেলার পর দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়। এরপর বাঁশের স্তূপ ট্রলারের সঙ্গে বেঁধে ট্রলার চালিয়ে নিয়ে যাই। ট্রলার আমাদের। বাঁশপ্রতি আমাদের ৮ থেকে ১০ টাকা করে লাভ থাকে।’

উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে হাটটি এক বছরের জন্য এক লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন শাহিন খান। তিনি বলেন, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই হাট চলে। হাটের যোগাযোগব্যবস্থা ও পরিবেশ দুই-ই ভালো। তবে নদের ভাঙনে হাটের জায়গা কমে যাচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন