বিজ্ঞাপন

ভোগড়া লাবিব ফ্যাশন কারখানার শ্রমিক মহব্বত আলী চাকরির কারণে থাকেন বাসন এলাকায়। সাহ্‌রি খেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে অটোরিকশায় ১০০ টাকা ভাড়া দিয়ে চন্দ্রা এসেছেন। তিনি যাবেন রাজশাহীর মতিহার এলাকায়। চন্দ্রায় এসে সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে আছেন, কোনো যানবাহন পাচ্ছেন না। কীভাবে যাবেন, জানতে চাইলে বলেন, ‘একটা উপায় হয়ে যাবে। বাস যদি না পাই, তাহলে ট্রাকে উঠে চলে যাব। বাড়িতে গিয়ে মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করব, এর চেয়ে আনন্দের আর কী আছে। করোনায় যা হয় হবে।’

কোনাবাড়ি এলাকার কারখানাশ্রমিক আরহাম হোসেন বলেন, ‘১০ দিনের ছুটি পেয়েছি। এত দিন এখানে থেকে কী করব? তাই যেভাবেই হোক বাড়িতেই যাব।’ কারখানাশ্রমিক সামিয়া আক্তার বলেন, ‘চাকরির কারণে বেশির ভাগ সময় বাড়িতে যেতে পারি না। তাই বলে ঈদের সময় বাড়ি যাব না, তা কি হয়!’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাজীপুরের ওপর দিয়ে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। তবে লোকাল যাত্রীবাহী বাস, কিছু ট্রাক-পিকআপ ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করছে। চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যাত্রীবাহী পরিবহন না পেয়ে মানুষের জট লেগে আছে। আজ সকাল থেকে ওই জট শুরু হয়ে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বাড়তে থাকে। কারখানাগুলোতে প্রথমে ছুটি ছিল তিনদিনের। কিন্তু এখন তাঁরা আন্দোলন করে ১০ থেকে ১২ দিন করে ছুটি আদায় করছেন। তাতে ধারণা করা হচ্ছে, বিকেলের পর থেকে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঘরমুখী মানুষের চাপ কয়েক গুণ বাড়বে। মহাসড়কে যানবহনের কোনো জটলা যাতে সৃষ্টি না হয়, তার জন্য পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। আগের মতোই চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

default-image

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। মহাসড়কে কোনো যানজট নেই, তবে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঘরমুখী মানুষের অনেক ভিড়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন