default-image

ভোলার চরফ্যাশনে কলেজছাত্রীর ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা সাজানো বলে দাবি করেছে আসামির পরিবার। আজ রোববার দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিযোগ করা হয়, মূলত আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ মিথ্যা ঘটনা ও মামলা সাজানো হয়েছে।

তবে মামলার বাদী কলেজছাত্রীর পিতা আবদুল খালেক শিকদার আসামিপক্ষের দাবি মিথ্যা বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, কেউ ইচ্ছে করে তাঁর মেয়ের মুখে অ্যাসিড ছোড়ে না। তাঁর মেয়ে এখনো চিকিৎসাধীন। অ্যাসিড নিক্ষেপ করে বেলায়েত ও হানিফ মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর সময় বাজারের অনেকে দেখছেন, এখন অস্বীকার করলে কী করা যাবে।

উপজেলার আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শিবা গ্রামে গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নিজ ঘরে বসে পড়ছিলেন কলেজছাত্রী ছালমা আক্তার। এ সময় দুর্বৃত্তরা জানালার ছিদ্র দিয়ে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ঢুকিয়ে মুখমণ্ডলে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ আবদুল খালেকের। এ ঘটনায় তিনি দক্ষিণ শিবা গ্রামের বেলায়েত হোসেন ও হানিফ মাঝিকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।

আজ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোসাম্মত সুখী আক্তার (১৯)। তিনি বলেন, তাঁর আপন বড় ভাই বেলায়েত হোসেন। চাচাতো ভাই মো. হানিফ মাঝি। দুজনই ব্যবসায়ী। বেলায়েত ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও আসন্ন নির্বাচনে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য ইউপি সদস্য প্রার্থী। তিনি বাড়িতে থাকেন না। চরফ্যাশন বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করেন। সুখীর বিয়ের কথাবার্তা বলার জন্য তাঁর বাবা ঘটনার দিন বিকেল পাঁচটায় ভাইকে (বেলায়েত) ডেকে পাঠান। ভাই কথাবার্তা শেষে সাড়ে পাঁচটার দিকে চরফ্যাশনে ফিরে যান।

বিজ্ঞাপন

সুখী বলেন, বেলায়েতকে এলাকায় দেখেই আবদুল খালেক এ মিথ্যা নাটক সাজিয়েছেন। কারণ, তিনি (আবদুল খালেক) ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর ভাইয়ের মতো তিনিও আগাম গণসংযোগ শুরু করেছেন। এককভাবে নির্বাচিত হওয়ার জন্য ভাইয়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।

সুখী বলেন, বাদী মামলায় উল্লেখ করেছেন, ইনজেকশনের সিরিঞ্জ দিয়ে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেছে। কিন্তু সিরিঞ্জ দিয়ে নিক্ষেপ করলে তো তাঁর মেয়ের সমস্ত মুখে অ্যাসিড লাগার কথা। কিন্তু তাঁর মুখের এক পাশে ছোট একটি দাগ হয়েছে। এতে বোঝা যায়, তাঁর ভাইকে ফাঁসানোর জন্য নিজের বিবাহিত মেয়ের মুখে ব্যাটারির অ্যাসিড মেখে দিয়েছে।

সুখী আরও বলেন, মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এলাকার মিনাবাজারের চান্দিনা ভিটা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ভাই তাঁর (আবদুল খালেক) মেয়ে ছালমা বেগমকে গত বৃহস্পতিবার রাতে(৪ ফেব্রুয়ারি) অ্যাসিড নিক্ষেপ করেছেন। কিন্তু ওই বাজারে তাঁদের বা ভাইয়ের কোনো জমি বা ভিটে নেই। ফলে জমি নিয়ে বিরোধের প্রশ্নেই উঠে না। তাঁরা সরকারের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে আবদুল খালেক বলেন, তিনি নির্বাচনে কখনো দাঁড়াবেন না। বেলায়েতের সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ ছিল না। মিনাবাজারের চান্দিনা ভিটে নিয়ে বেলায়েত তাঁর বিপক্ষের নজরুল ইসলামের পক্ষ নেন। বেলায়েতের মিনাবাজারে কোনো ভিটা নেই, সত্য। কিন্তু তিনি একেকজনের পক্ষ নিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন