default-image

ভোলার চরফ্যাশন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী মাঠে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন দুই পক্ষের ১২ জন। বুধবার সন্ধ্যায় পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাইমুদ্দিনের মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন রিয়াজুল ইসলাম (৩৫), লাভলী আক্তার (২৫), মো. আলী (২৫), মো. সোলাইমান (৩৬), কামরুল ইসলাম (৪২), আলমগীর বাতান (৪৩), নীরব ফকির ও মো. রুবেল (৩০)। তাঁরা চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহত বাকি চারজনের নাম জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরফ্যাশন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নজরুল ইসলাম কিষাণ (পাঞ্জাবি প্রতীক) ও মো. মফিজুল ইসলাম (পানির বোতল প্রতীক)। দুজনই উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মী। প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বুধবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিজ্ঞাপন

সংঘর্ষে আহত কামরুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নায়েবের বাড়িতে নৌকার মেয়র পদপ্রার্থী মো. মঞ্জুরের উঠান বৈঠক ছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে তিনি হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা তাঁকে পিটিয়ে জখম করে পকেট থেকে নগদ টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে গেছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লাভলী আক্তার বলেন, তিনি ওই সময় বাড়ির সামনে টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে যান। তাঁর দেবরকে (কামরুল) সন্ত্রাসীরা মারধর করছিল দেখে তিনি চিৎকার করেন। সন্ত্রাসীরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে রাস্তার ওপরে নিয়ে মারধর করেন। এ সময় তাঁর স্বামী রিয়াজ উদ্দিন ও আত্মীয় সোলাইমান তাঁকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বর্তমান কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম কিষাণ বলেন, প্রতিপক্ষ কাউন্সিলর প্রার্থী মফিজুল ইসলাম ওরফে মফিজ মেম্বারের (পানির বোতল) কর্মী বাবু হাওলাদার সব সময় অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ান। বিষয়টি তিনি প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনকে জানালে মফিজ, আলমগীর হোসেন বাথান, মো. নীরব ফকিরের নেতৃত্বে প্রায় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁর বাড়িতে হামলা করেন। বাড়ির দরজায় তাঁর ভাই কামরুল ইসলামকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। এ সময় তাঁর পাঁচজন কর্মী-সমর্থককে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও মফিজের লোকজন তাঁদের মারধর করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নীরব ফকির বলেন, নৌকার মেয়রপ্রার্থীর উঠান বৈঠক শেষে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফিরছিলেন। পেছনে থাকা আলমগীর বাথানের ওপর কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম কিষাণ, তাঁর ভাই কামরুল, আমিরুল ইসলাম, রিয়াজসহ আরও অনেকে মিলে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেন। এ সময় আলমগীর বাথান (৪২) ও রুবেল হোসেন (৩০) আহত হন। আহত আলমগীরকে বরিশালে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কাউন্সিলর প্রার্থী মফিজুল ইসলামের দাবি, ‘নজরুল ইসলাম একজন মাদকসেবী-বদমেজাজি। তাঁর নির্যাতনে ওয়ার্ডবাসী অতিষ্ঠ। তাঁর মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে তিনি দিশেহারা। হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় যাঁকে পাচ্ছেন, তাঁকে মারছেন। বুধবার রাতে হামলা করে আমার সাতজন কর্মী-সমর্থককে আহত করেছেন তাঁরা।’
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন মিয়া বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষ ঘটলে টহলরত পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। তবে সংঘর্ষে কিছু লোক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন