default-image

গাড়ি থামিয়ে বাঙ্গি কিনছেন দূরদূরান্তের মানুষ। মাঠ থেকে পথের ওপরে তুললেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বাঙ্গি। আলাদা করে কোনো বাজারে নিয়ে যেতে হচ্ছে না।

চলনবিলের ভেতরে বোনপাড়া-সিরাজগঞ্জ সড়কটাই যেন বাঙ্গির বাজার হয়ে গেছে। এই পথের পাশে শতখানেক চাষিকে বাঙ্গি নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। আবার পাইকারি ক্রেতারাও রাস্তাতেই ট্রাক ভিড়িয়ে বাঙ্গি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

গত বুধবার হাট ছাড়াই পথের ধারে বাঙ্গি বিক্রির এই দৃশ্য দেখা যায়। এলাকাটি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের মধ্যে পড়েছে।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত কুমার সরকার বলেন, নাটোরে ৭৬৮ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি চাষ হয়েছে। তার মধ্যে গুরুদাসপুর উপজেলায় ৫২৯ হেক্টর, বড়াইগ্রামে ১১৫ হেক্টর ও বাকিটা নাটোর সদর ইউনিয়নে। তিনি বলেন, স্থানীয় চাষিরা রসুনের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে বাঙ্গি চাষ করে থাকেন। বলা যায়, বাঙ্গিটা ফাও পাওয়া যায়। প্রতি হেক্টর জমিতে ৩০ থেকে ৪০ মেট্রিক টন বাঙ্গি হয়। এপ্রিলের প্রথম থেকে বাঙ্গি উঠতে শুরু করেছে। আগামী মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাঙ্গি উঠবে। সাথি ফসল হিসেবে বাঙ্গি একটা লাভজনক ফসল।

বিজ্ঞাপন

যে এলাকায় বেশি পরিমাণে চাষিরা রাস্তার ধারে বাঙ্গি স্তূপ করে রেখেছেন, সেটি গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের সিধুলি মৌজার মধ্যে পড়েছে। এলাকার নয়াবাজার থেকে আইড়মারী ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের মধ্যে বাঙ্গি নিয়ে চাষিদের বসে থাকতে দেখা যায়।

বুধবার সন্ধ্যার আগে সিধুলি গ্রামের চাষি টিপু সুলতান রাস্তার ধারে বাঙ্গি নিয়ে বসে ছিলেন। কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তাঁর দেড় বিঘা জমিতে বাঙ্গি ছিল। সেখানে বাঙ্গি ওজন করে বিক্রি হয় না। টিপু সুলতান বলেন, ৩ হাজার ৭০০ টাকা শ হিসাবে তিনি পাইকারি দরে বাঙ্গি বিক্রি করছেন। একটা বাঙ্গি বাজারে নিয়ে গেলে ৫০ টাকা করে বিক্রি হবে। তিনি বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় বাঙ্গি এবার মিষ্টি হয়েছে। এ জন্য ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। একই গ্রামের রিপন আলী তিন বিঘা জমিতে বাঙ্গি চাষ করেছেন। তাঁর দেড় বিঘা জমি ইজারা নেওয়া আর বাকিটা নিজের। তিনিও পাইকারি ৩ হাজার ৭০০ টাকা শ হিসাবে বাঙ্গি বিক্রি করছেন।

একই গ্রামের চাষি বকুল ইসলাম এক বিঘা জমিতে রসুনের সঙ্গে বাঙ্গি করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর জমিটা এক বছরের জন্য তিনি ১৫ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন। এই জমি থেকে রসুন তুলেছেন। আর বাঙ্গি থেকে আবহাওয়া ভালো থাকলে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, বাঙ্গিটা দিয়ে জমির ইজারা মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এটাই বাড়তি লাভ। তাঁরা দেশি জাতের গোল বাঙ্গি চাষ করেন। এই জাতের একটা বাঙ্গি তিন থেকে পাঁচ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। রমজান মাসে ইফতারির জন্য বাঙ্গির বিশেষ চাহিদা রয়েছে। ৩ হাজার ৮০০ টাকা শ হিসাবে তিনি ঢাকার একটি পার্টির কাছে ৫৭টি বাঙ্গি বিক্রি করলেন।

টাঙ্গাইল থেকে রাজশাহী যাচ্ছিলেন সজীব মিঞা। তিনি গাড়ি থামিয়ে ৪০ টাকায় একটি বাঙ্গি কিনলেন। তিনি বললেন, পথের মধ্যেই হয়তো ইফতার হবে। সেই জন্য বাঙ্গিটা কিনলেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এম মনজুর হোসেন বলেন, বাঙ্গিতে ভিটামিন এ এবং সি আছে। সেই সঙ্গে ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামও রয়েছে। এ ছাড়া বাঙ্গিতে যে আঁশ (ফাইবার) আছে, সেটা ক্যানসার প্রতিরোধক। ইফতারির সময় প্রচুর মানুষ বাঙ্গি খান। এটা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন