বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পঞ্চম পর্বে বদলি শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। তিনি জয়পুরহাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বগুড়ার ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য বদলি ছাড়পত্র নিয়ে এসেছিলেন। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর ভর্তির সময় বেঁধে দেওয়া আছে।

আনারুলের বাড়ি নওগাঁর ধামইরহাট পৌরসভার চকউমর পাটারীপাড়া এলাকায়। তাঁর বাবা নজরুল ইসলাম একজন ভ্যানচালক।

মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নির্যাতনের শিকার আনারুল ইসলাম বলেন, ওই দিন (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে নিজ রুম থেকে বের হয়ে দোতলায় ডাইনিং রুমে নাশতা করতে যান তিনি। নাশতা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর মাস্ক পরা ২৫-৩০ বছর বয়সী দুজন যুবক তাঁকে ডেকে নেন। একপর্যায়ে ওই দুই যুবক ছাত্রাবাসের দোতলার বাথরুমে নিয়ে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন। তাঁরা তাঁর প্যান্ট ও শার্টের পকেটে টাকা ও মোবাইল খুঁজতে থাকেন। এসব কিছু না পাওয়ায় তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর মুখে কাপড় গুঁজে দেন। একজন সন্ত্রাসী মুখ ও মাথা উপুড় করে চেপে ধরেন। অপরজন একটি ধারালো কাঁচি দিয়ে তাঁর ডান হাতের তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল কেটে দেন। মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়ার কারণে প্রচণ্ড চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ তাঁর চিৎকার শুনতে পায়নি। তা ছাড়া সন্ত্রাসীরা বাথরুমের পানির ট্যাব খুলে দিয়েছিল। এতে ট্যাবের পানি বালতিতে বেশ জোরে শব্দ করে পড়ছিল। আঙুল কেটে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর আনারুল জানতে পারেন, তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি শয্যায় শুয়ে আছেন। এ ঘটনার পর এত দিন তিনি ভয়ে মুখ খোলেননি। এখন সবাই তাঁর পাশে দাঁড়ানোয় তিনি এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর ওপর বর্বর এ নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন আনারুল।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ধামইরহাট উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা, ধামইরহাট সফিয়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহমান, পৌর কাউন্সিলর আলতাব হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সুফিয়ান হোসাইন, শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন, রিয়াদ বাবু, নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী আনারুলের মা সায়রা বানু প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, আনারুল খুবই দরিদ্র পরিবারের ছেলে। ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্টে করে তিনি লেখাপড়া করে আসছেন। ভ্যানচালক বাবার সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে বগুড়ায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা প্রকৌশল কোর্স সম্পন্ন করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাঁর স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন