বিজ্ঞাপন

মহানন্দা নদীর ওপারে বারঘরিয়া ইউনিয়নে পুলিশের তল্লাশিচৌকির কাছে গিয়ে মোটরসাইকেলের অনেক চালককে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে দেখা যায়। বেশির ভাগকেই ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। স্থানীয় লোকজন জানান, সকালের দিকে শহরে যাওয়ার জন্য অনেক মানুষের ভিড় ছিল। কিন্তু পুলিশ বেশির ভাগকেই ফিরিয়ে দেয়। চৌকিতে কর্মরত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, খুব বেশি মানুষ শহরে ঢোকার জন্য ভিড় না জমালেও অনেকেই এসেছিলেন। শুধু চিকিৎসাসহ জরুরি কাজে আসাদের শহরে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বাজারে লকডাউন উপেক্ষা করেই খোলা ছিল দোকানপাট। ছিল লোকজনের ভিড়ও। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় আট দোকানদারকে তিনি ৪ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করেন। ইউএনও মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, খাদ্যদ্রব্যের দোকান ছাড়াও এসব খোলা জরিমানা করা দোকানপাটে লোকজনের ভিড় দেখা গেছে। তবে অধিকাংশ মানুষই মাস্ক পরে ছিলেন। মাস্ক পরার ক্ষেত্রে সচেতনতা বেড়েছে।

default-image

শিবগঞ্জ পৌর এলাকার আম বাজারে কোনো আম বিক্রেতা আসেননি বলে জানান শিবগঞ্জ ম্যাঙ্গো প্রোডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শামীম খান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জেলার সবচেয়ে বড় আমের বাজার কানসাটে এসেছে মাত্র তিন ভ্যান আম। অথচ এ সময় শতাধিক ভ্যান থাকার কথা। তবে আড়তদারেরা এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাগানে বাগানে গিয়ে আম সংগ্রহ করছেন।

গোমস্তাপুর উপজেলার আম বাজারটি হচ্ছে রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনের সামনে। সেই বাজার স্থানান্তর করা হয়েছে মহানন্দা নদীর তীরে মকরমপুরের পিএম কলেজের কাছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে বাজার বসানোর স্বার্থে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে আজ ছিল অল্প কয়েকজন আম ব্যবসায়ীর উপস্থিতি। এ ব্যাপারে ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, আমের বাজারগুলো সেখানে বসলেও আড়তগুলো থাকবে রহনপুরের পূর্বের স্থানে। আজ আবহাওয়া একটু মেঘলা থাকায় আম ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি কম।

default-image

সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মহারাজপুর আম বাজারও ফাঁকা ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের হাসপাতাল সড়কের পাশে আম বাজারের অবস্থা ভালো ছিল। লকডাউনের গত দুদিনে বাজারে আম এসেছিল পাঁচ থেকে ছয় ভ্যান করে। সেখানে আজ সকালে ২৪ থেকে ২৫ ভ্যান আম এসেছে বলে জানান আম ব্যবসায়ী সুকুমার প্রামাণিক। তিনি বলেন, এটি মন্দের ভালো।

এদিকে গতকাল বুধবার রাতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আসা করোনার নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে জানা যায়, ৫৫ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছিল। তার মধ্যে ২৪ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। সংক্রমের হার ৪৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আগের দিন গত মঙ্গলবার রাতে পাওয়া প্রতিবেদনে ২১২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৩১ জন করোনা পজিটিভ হয়েছিলেন। ওই দিনের সংক্রমণের হার ৬১ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

এর আগের গত এক সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষার গড় হিসাবে দেখা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতি দুজনের নমুনা পরীক্ষায় একজনের (৫৯ শতাংশ) করোনা শনাক্ত হচ্ছে। অথচ ওই এক সপ্তাহে শনাক্তের জাতীয় হার ছিল ৯ শতাংশের নিচে। এ পরিস্থিতিতি সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।

default-image

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সংক্রমণের হার কিছুটা কমলেও এতে স্বস্তির কিছুই নেই। অল্পসংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করে এ ফলাফল পাওয়া গেছে। আমাদের সপ্তাহব্যাপী এ লকডাউন কঠোরভাবেই মানতে হবে। সংক্রমণের রাস টেনে ধরতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।’

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) লিয়াকত আলী শেখ প্রথম আলোকে বলেন, ‘লকডাউনের তৃতীয় দিনও আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও আমি আলাদাভাবে সকালে রাস্তায় বেরিয়েছি। আজ জেলা প্রশাসনের ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের দল জেলাব্যাপী কাজ করছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন